জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি গভীর রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফাঁসি কার্যকর হওয়া খুনিরা হলো- ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ ও একেএম মহিউদ্দিন।জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার ক্ষণটির জন্য উন্মুখ ছিল জাতি। ইতিহাসের জঘন্যতম ও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ঘাতকদের দণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করেন রাজনীতিবিদ, শিল্পী, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদসহ সমাজের সর্ব স্তরের মানুষ।এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর সাতজনের মধ্যে ছয়জন এখনো বিদেশে পালাতক রয়েছে। এরা হলেন, খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও আবদুল মাজেদ। তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে। দণ্ডিত অপরজন আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা গেছে। এর আগে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত ওই মামলায় ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি চার আসামির আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আবদুল গফুর আসামিদের মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে সেটি কার্যকর করা হয়।উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনা সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হানা দিয়ে শিশু রাসেল, স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলা হয়। বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আপিল বিভাগ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ফাঁসি কার্যকর হওয়া নিয়েও অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান প্রাণভিক্ষার আবেদন করলেও সিদ্ধান্ত হয় জাতির পিতাকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের আসামিকে প্রাণভিক্ষা দেওয়া যায় না। কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও সেটি নাকচ হয়ে যায়।১৯৭৫ সালের ন্যক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৯৬ সালে প্রথম মামলা হয়। সেখানে আসামি করা হয় ২৪ জনকে। তখন থেকেই ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯৮ সালে অপর আসামি বজলুল হুদাকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পলাতক অপর খুনি একেএম মহিউদ্দিনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রেফতার করে আনা হয়। এরপর থেকেই তারা কারাগারের কনডেম সেলে ছিলেন। এফএইচ/এএইচ/এসএইচএস/পিআর