রাঙামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু, কাপ্তাই, বরকল, কাউখালী উপজেলাসহ বিভিন্ন দূর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় অব্যাহতভাবে চলছে বন্যহাতির উপদ্রব। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে বন্যহাতির আক্রমণে ওইসব এলাকায় ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ ও পুলিশ। সর্বশেষ সোমবার রাতেও লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নের চাইল্যাতলী নামক প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় হাতির আক্রমণে হনুফা বেগম (৩৫) নামে এক নারীর প্রাণহানি ঘটে। লংগদু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, ওই রাতে বন্যহাতির একটি দল মৃত খোরশেদ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগমের বসতঘরে হানা দিলে পরিবারের অন্যরা পালিয়ে যেতে পারলেও হনুফা হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান। পরে খবর পেয়ে গ্রামের বাসিন্দারা গিয়ে বন্যহাতির দলটিকে তাড়িয়ে দেয়। এ ব্যাপারে লংগদু থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।ওসি মমিনুল ইসলাম আরও জানান, লংগদুর প্রত্যন্ত এলাকায় বন্যহাতির তাণ্ডব বেড়েই চলছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এলাকার লোকজন। গত দুই-তিন মাসের ব্যবধানে এ পর্যন্ত সেখানে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বন্যহাতির আক্রমণে। এদিকে জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রবের বিষয়টি স্বীকার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা সালা উদ্দিন বলেন, বনভূমি উজাড় হওয়ায় খাদ্য ও আবাসস্থলের সঙ্কটে পড়ে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে বন্যহাতিরা। ফলে লোকালয়ে ঢুকে প্রায় সময়ই হানা দিচ্ছে বন্যহাতির দল। গত প্রায় এক বছরের মধ্যে এ পর্যন্ত তার বিভাগের এলাকাধীন বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে জানিয়ে এ বন কর্মকর্তা বলেন, বন্যহাতির উপদ্রব ঠেকাতে এবং নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনদের ক্ষতি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সুশীল প্রসাদ চাকমা/এফএ/এবিএস