দেশজুড়ে

বিয়ের স্বীকৃতি চায় দুই সন্তানের মা

দুই সন্তানসহ বিয়ের স্বীকৃতির দাবি নিয়ে স্থানীয়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের সরাপাড়া গ্রামের কাঞ্চন মিয়ার মেয়ে ইতি আক্তার। ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও ইতি ও তার সন্তানদের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। জানা যায়, ২০১০ সালে ইতি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। ওই সময় ইতি আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের বকুল মিয়ার ছেলে জামাল মিয়ার প্রেমের সম্পর্কে গড়ে ওঠে। তখন উভয় পরিবারের লোকজন তাদের বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ইতি আক্তারের বিয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে রেজিস্ট্রি করার সুযোগ না থাকায় স্থানীয় মৌলভীর মাধ্যমে ইতিকে বিয়ে দেয়া হয়।  বিয়ের পর কিছুদিন ভালোই চলে জামাল ও ইতি আক্তারের দাম্পত্য জীবন। তাদের সংসারে মাহি (৪) ও ইভা (১) নামে দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু তাদের সেই দাম্পত্য জীবন বেশি দিন ভালো যায়নি। বিয়ে রেজিস্ট্রি না হওয়ার সুযোগ নিয়ে স্বামী জামাল মিয়া ইতি আক্তারকে প্রায়ই অশালীন ভাষায় গালাগাল করতেন।একপর্যায়ে শ্বশুর-শাশুড়ির সহযোগিতায় স্বামী জামাল ইতি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। সেই সঙ্গে  ইতি আক্তারকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে মোটা অংকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন জামাল মিয়া। এতে ইতি আক্তার অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ইতিকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করা হয়নি বলে তাকে নিয়ে আর ঘর-সংসার করবে না বলেও হুমকি দেন স্বামী জামাল।  সম্প্রতি বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিতে ইতি আক্তারকে চাপ দেন জামাল মিয়া। টাকা এনে দিতে অসম্মতি জানালে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইতি আক্তারের উপর চলে অমানসিক নির্যাতন। গত ১২ আগস্ট ইতিকে বেধড়ক মারধর করলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।  বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গ্রামের মাতব্বররা কয়েক দফা সালিশি বৈঠক করেও সমাধান করতে পারেননি। শেষে বাধ্য হয়েই আইনি সহযোগিতার দারস্থ হতে হয় ইতি আক্তার ও তার পরিবারকে। গত ১৩ আগস্ট ইতি আক্তারের মা রহিছা আক্তার বাদী হয়ে মেয়ের জামাই জামাল মিয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নির্যাতিতা গৃহবধূ ইতি আক্তার জাগো নিউজকে জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী জামাল মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজন বিভিন্নভাবে তাকে নির্যাতন করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই তাকে নিয়ে আর ঘর-সংসার করবে না এবং বিয়ের স্বীকৃতিও দেবে না বলে হুমকি দেয়।তিনি বলেন, ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আমি এখন কি করব, ভেবে পাচ্ছি না। বলাইশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আকবর তালুকদার মল্লিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সালিশি বৈঠক করেও ব্যর্থ হয়েছি। রেজিস্ট্রি ছাড়া বাল্যবিয়ে দেয়ার কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।  কেন্দুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিরঞ্জন দেব বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।কামাল হোসাইন/এএম/পিআর