দেশজুড়ে

যুদ্ধাপরাধ মামলায় কলেজ শিক্ষক গ্রেফতার

শেরপুরে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি নকলা হাজী জালমামুদ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এসএম আমিনুজ্জামান ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নকলা শহর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালহ্উদ্দিন সিকদার এএম আমিনুজ্জামান ফারুককে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে তাকে নকলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আমিনুজ্জামান ফারুককে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট কোর্টে সোপর্দ করার জন্য পুলিশ প্রহরায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নকলা বাজারদি এলাকার সৈয়দ আলম মঞ্জু ২০০৯ সালের ১৩ এপ্রিল ইসিবপুর এলাকার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক এসএম আমিনুজ্জামন ফারুকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় তার চাচা সৈয়দ শাহজাহান আলী নকলা ধানহাটি বাজার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হচ্ছিলেন। এসময় আলবদর বাহিনীর সদস্য এসএম আমিনুজ্জামান ফারুক ও তার ৫ সহযোগী তাকে ধরে নকলা থানায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে নকলা পাইলট হাইস্কুলের পাক বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে গায়ের কাপড়, মাথার পাগড়ি খুলে মুখে ঢুকিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হলে এ ঘটনায় সৈয়দ আলম মঞ্জু বাদী হয়ে নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সেই মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মামলা দায়েরের পর ২০০৯ সালের ২৬ জুন নকলা হাজী জালমামুল কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলা বিভাগের প্রভাষক এসএম আমিনুজ্জামান ফারুককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এদিকে, এএসএম আমিনুজ্জামান ফারুকের গ্রেফতারের খবর শুনে মামলার বাদী সৈয়দ আলম মঞ্জু সন্তুষ প্রকাশ করে জানান, একাত্তরের ঘটনার সময় আমি ভারতে ছিলাম। দেশে এসে ঘটনাটি জানতে পারি। কিন্তু বিচারের উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় মামলা করতে বিলম্ব হয়। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, বদল ফারুকসহ তার সহযোগীরা আমার চাচাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি একজন পশু চিকিৎসক ছিলেন। এখন ন্যায় বিচারের আশায় আমরা দিন পার করছি।   হাকিম বাবুল/এআরএ/এবিএস