শেরপুরে দাফনের ২২ দিন পরে কবর থেকে এক গৃহকর্মীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পুন:ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম ঝিনিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।গৃহকর্মী রূপা আক্তারের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস।তিনি জানান, শেরপুর কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল মুনসুরের উপস্থিতিতে কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় জেলা মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ ও আশপাশের শত শত লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।তিনি আরো জানান, বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারিক আদালতের নির্দেশে ২২ দিন পর কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়েছে। এ সময় মরদেহটি গলিত অবস্থায় ছিল। মরদেহ উত্তোলন করে পুন:ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।গত ৯ আগস্ট সকালে শহরের দূর্গানারায়ণপুর এলাকার গৃহকর্ত্রী সালমা জাহান সাথীর বাসা থেকে গৃহকর্মী রূপা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই গৃহকর্ত্রীর স্বামী এস এম মমিন দীর্ঘদিন যাবৎ বিদেশে থাকায় একমাত্র শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। এ সময় রূপার গলায় ফাঁস লাগালো হলেও মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল এবং শরীরে বেশ কিছু জখম দেখা যায়।খবর পেয়ে থানা পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে রূপার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং গৃহকর্ত্রীকে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের মা খোরশেদা বেগম বাদী হয়ে গৃহকর্ত্রী সালমা জাহান সাথী ও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ওই গৃহকর্ত্রীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে গৃহকর্ত্রী সালমা জাহান জামিনে বের হয়ে আসেন।এদিকে নিহত গৃহকর্মী রূপা আক্তারের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেরপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘আত্মহত্যা’ এবং একই সঙ্গে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার মন্তব্য থাকায় এ বিষয়টি নিয়ে ধুম্র্রজালের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ শেরপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ আন্দোলনে নামে। একপর্যায়ে মামলার বাদী ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে রূপা আক্তারের আত্মহত্যার মন্তব্যটি প্রত্যাখ্যান করে বিচারিক আদালতে পুন:ময়নাতদন্তের আবেদন জানায়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে দাফনের ২২ দিন পর আজ মঙ্গলবার নির্বাহী হাকিমের উপস্থিতিতে রূপা আক্তারের মরদেহ উত্তোলন করে পুন:ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।হাকিম বাবুল/এএম/আরআইপি