চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সড়কে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের দুই সদস্যসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করা হয়েছে।এলাকাবাসী জাগো নিউজকে জানায়, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেলের তিনতলার বাসার নিচতলায় তেলের বিক্রয় কেন্দ্র ছিল। সেখানে ড্রামভর্তি পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল ছিল এবং বাসার সামনে পদ্মার ডিপোর জ্বালানি তেলবোঝাই লরি ছিল।ধারণা করা হচ্ছে, লরি থেকে তেল নামানোর সময় হঠাৎ করে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এ সময় নিচতলায় তেলের দোকানে থাকা ড্রামগুলো বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের লেলিহান শিখা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে বাসার সামনে থাকা লরি ও ভেতরে একটি মাইক্রোবাসসহ আসবাবপত্র পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।ওই বাসায় থাকা তিনটি পরিবারের লোকজন হুরাহুরি করে প্রথমে ছাঁদে ওঠে, পরে আবার ছাঁদ থেকে নামতে গিয়ে আগুনের লেলিহান শিখায় দোকানের মালিক ও ফায়ার সার্ভিসের দু’সদস্যসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।এদের মধ্যে গুরুতর আহত দোকালের মালিক মিজানুর রহমান (৪৫), নূর মোহাম্মদ (২১), রায়হান (২৩), বাদশা মিয়া (৫০), মিজানুর রহমান (৫০), দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া (২৮) ও খোকনকে (৩০) ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। বাকিরা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও এ রিপোর্ট লেখা (৩টায়) পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী সিনিয়র স্টেশন কমান্ডার মো. ফারুক জাগো নিউজকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ছুটে আসি। আবাসিক এলাকায় এই তিনতলার বাসার নিচতলায় মিজানুর রহমানের দোকানে পেট্রল, ডিজেল, অকটেন, গ্যাস সিলেন্ডারসহ পর্যাপ্ত তেল মজুদ ছিল। এছাড়াও পদ্মা ডিপোর একটি তেলবোঝাই লরিও ছিল। যার জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কষ্ট হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসবে।এদিকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আব্দুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহাদাৎ হোসেন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়ালি উলাহ অলির নেতৃত্বে পর্যাপ্ত পুলিশ আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছেন।জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল জাগো নিউজকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে প্রশাসনের সবাই ছুটে আসেন। আমি বাখরাবাদে ফোন করে চাঁদপুরের গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দিয়েছি যেন বড় ধরনের দুর্ঘটনা না হয়।ইকরাম চৌধুরী/বিএ