প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ এনে সোমবার থেকে নাটোর শহরের সকল প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নাটোর জেলা শাখা। শনিবার রাত ৮টার দিকে নাটোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক মত বিনিময় সভায় সমিতির নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জেলার ক্লিনিকগুলো সুনামের সঙ্গেই তাদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ক্লিনিকগুলো আগের মতো জনবল নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সম্প্রতি অধিক লোকবল ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হবে না মর্মে প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কিন্তু চাহিদা মাফিক লোকবল পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বিভিন্ন সময় প্রশাসনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি করেন সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা আগামী সোমবার থেকে তাদের ক্লিনিকগুলোর সকল কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জেলা কমিটির আহ্বায়ক মকছেদ আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান আলমগীর ও সদস্য সচিব আব্দুল আওয়াল রাজাসহ অন্যান্যরা।উল্লেখ্য শনিবার দুপুরে শহরের বড় হরিশপুর এলাকার একতা ক্লিনিকে চিকিৎসক স্বল্পতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্লিনিকের মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার দুপুরে র্যাব-৫ এর একটি দল শহরের বড় হরিশপুরে অবস্থিত একতা ক্লিনিকে অভিযান চালায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালিক শহিদুল ইসলামকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নাটোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ক্লিনিকগুলো বন্ধের এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল ইসলাম জানান, ক্লিনিক মালিকদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তিনি জানেন না। তারা যদি লিখিতভাবে জানায় তবে এ ব্যাপারে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান জানান, ক্লিনিক মালিকদের কোনো প্রকার প্রশাসনিক হয়রানি করা হয়নি। সাধারণ জনগণ যাতে সঠিক চিকিৎসাসেবা পান আবার ক্লিনিক মালিকরাও যাতে তাদের ব্যবসা চালাতে পারেন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।রেজাউল করিম রেজা/এসএস/এমএস