ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর চরে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিকটি যেন আঁধারে আশার আলোর প্রদীপ জ্বেলেছে। তবে চরবাসীর দাবি জটিল কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য এ কমিউনিটি ক্লিনিকে যেন একজন বিশেষজ্ঞ বা এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ দেয় সরকার।জানা যায়, মেঘনা নদীর বুক চিড়ে জেগে ওঠা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরসোনারামপুর চরে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত রয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। তবে ক্লিনিকটিতে রয়েছেন একজন কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। প্রাথমিক চিকিৎসার উপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এ সিএইচসিপিই রোগীদেরকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকেন।তবে বিশেষজ্ঞ বা এমবিবিএস কোনো চিকিৎসক না থাকায় এখান থেকে জটিল কোনো রোগের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় না। এছাড়া ক্লিনিকটিতে থাকা একমাত্র টিউবওয়েলটিও দীর্ঘ দুই বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছেন না ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগীরা।কমিউনিটি ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, প্রতি শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ক্লিনিকের কার্যক্রম। ক্লিনিক থেকে রোগীদের মাঝে ৩০ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিনি ক্লিনিকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসেন। গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সাড়ে তিন শতাধিক রোগী ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিয়েছেন। দুই টাকা হিসেবে প্রতি রোগীর কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই চলে কমিউনিটি ক্লিনিকের আনুষাঙ্গিক খরচ। এছাড়া ক্লিনিকটি সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি কমিটিও রয়েছে। এই কমিটির দায়িত্ব সুশৃঙ্খলভাবে ক্লিনিক পরিচালনা করা এবং ক্লিনিকের জন্য বিত্তবানদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করা।চরের বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মণ জাগো নিউজকে বলেন, ক্লিনিক থেকে আমরা ছোট খাটো রোগের জন্য সেবা পাচ্ছি। নিময়মিতই ক্লিনিক খোলা হয়। তবে আমাদের এই ক্লিনিকে একজন ভালো চিকিৎসক থাকলে অনেক উপকার হবে।অন্তঃসত্ত্বা শেফালী রাণী বর্মণ বলেন, ক্লিনিক থেকে নিয়মিত চেকআপ করাচ্ছি। তবে ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলে ডেলিভারির জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার প্রয়োজন হতো না।এ কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সানজিদা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ক্লিনিক থেকে সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। ক্লিনিক থেকে রোগীদের ৩০ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া বাড়তি হিসেবে অন্তঃসত্ত্বা নারীর বিশেষ চেকআপ করা হয়। তবে প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে ক্লিনিকে অন্তঃসত্ত্বা কোনো নারীর ডেলিভারি করানো সম্ভব হয়না।তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের জন্য সিভিল সার্জন অফিসে বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ নিতে পারলে তখন আমিই নরমাল ডেলিভারি করাতে পারবো।এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. হাসিনা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক নিয়োগ করা সম্ভব নয়। তবে একজন এমবিবিএস চিকিৎসককে বলা হয়েছে সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও যেন ক্লিনিকে রোগীদের সেবা দেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ডেলিভারি করানোর জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ চলছে। চরসোনারামপুরের ক্লিনিকের সিএইচসিপিও এ প্রশিক্ষণ পাবেন বলে জানান তিনি।এফএ/আরআইপি