দেশজুড়ে

অবরোধে বগুড়ার ৫ হাজার কারখানা বন্ধ

টানা ২৩ দিনের অবরোধের পাশাপাশি ২০ দলের ডাকা হরতালের প্রভাবে বাজরে শিশু খাদ্যসহ নিত্য ব্যবহৃত পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও তা চড়া দামে বিক্রি করছেন অনেকে। পরিবহন সংকটে স্থানীয় প্রায় ৫ হাজার কারখানা তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে অবরোধের কারণে বগুড়াসহ উত্তরের জেলাগুলোর বাজারে তিব্র সংকট দেখা দিয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের। মালবাহী ভারিযান চলাচল কম হওয়ায় বাজেরে সংকট দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক নিত্যপণ্যের। ডিটারজেন পাউডার, টুথপেস্ট, সাবান, হারপিক, শ্যাম্পু, নারিকেল তেল, ঢাকার তৈরি বিস্কুট, ব্রেড, ফলসহ সব ধরণের শিশু খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় ডিপোগুলোর স্টক শেষ হওয়া এবং ঢাকা, চট্রগ্রাম থেকে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর মালবাহী পরিবহন না আসায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য গেল কয়েক দিন চড়া দামে বিক্রি করলেও বর্তমানে বেশি টাকাতেও মিলছে না। বগুড়া বিসিকের ৮৮টি কারখানা কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মরত শ্রমিকরা। বিসিকি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আইনুল হক সোহেল জানান, চলমান হরতাল অবরোধে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাঁচামাল সংকটে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ করতে হয়েছে। দৈনিক বিসিকে ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা।আকবরিয়া অটো ফ্লাওয়ার মিলের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম জানান,গম সংকটে চলতি মাস পুরোটাই মিল বন্ধ রাখতে হয়েছে। অপর দিকে উৎপাদিত আটা পরিবহন না থাকায় গোডাউনে পরে আছে। বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের প্রায় ২ হাজার মেটাল সপ টানা ২৩ দিন অবরোধ ও মাঝে মাঝে হরতালে বন্ধ থাকছে। এ কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। লেদ শ্রমিক নেতা বাঘা জানিয়েছেন হরতাল অবরোধের কারণে শ্রমিকরা কারখানায় আসতে না পারায় কারখান বন্ধ রাখতে হয়। এ শিল্পের অধিকাংশ শ্রমিক চুক্তি ভিত্তিক কাজ করে থাকে। ফলে এই মাস পুরোটাই তারা মজুরি পাবে না। এ শিল্পের প্রায় ৮ হাজার শ্রমিককে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া বগুড়ার আরো ৮ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কারখানায় কাঁচামাল সংকট, অবরোধ, হরতালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বগুড়া লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া জানান, হরতাল অবরোধের কারণে উৎপাদন কমে গেছে।বগুড়ায় সরকারি প্রাইভেট ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরতাল অবরোধের কারণে বছরের প্রথম মাসে ব্যাংক লেনদেন প্রায় ৬০ ভাগ কমে গেছে। থার্ড জেনারেশনের কয়েকটি ব্যাংকের বগুড়া জোনাল অফিস ও শাখা ব্যবস্থাপকগণ জানিয়েছেন, হরতাল অবরোধের কারণে তারা নতুন বিনিয়োগে ভয় পাচ্ছেন। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরাও ঋণ ও বিনিয়োগ নিতে আগ্রহ প্রাকাশ করছেন না। অপর দিকে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা সব চেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ট্রাক শ্রমিকরা রাতে কিছু গাড়ি চালালেও স্থানীয় রুটে চলাচলকারী বাস শ্রমিকরা আয় রোজগারহীন হয়ে পড়েছে। কারণ তারা গাড়ি বের করতে পারছে না।বগুড়া আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, জেলায় ১১ হাজার ট্রাক শ্রমিক এবং ১৮ হাজার মোটর, বাস শ্রমিক আছে। তাদের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার শ্রমিক কাজ করতো। হরতাল অবরোধের কারণে বাস, ট্রাক সীমিত আকারে চলাচল করা শ্রমিকরা মনবেতর জীবন যাপন করছে।দোকন মালিকদের বেচা কেনা কমে গেছে চলতি মাসে। উত্তরাঞ্চলের সেন্ট্রাল সিটি বলে পরিচিত ব্যবসা ও শিল্পের শহর বগুড়ায় প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ লোক বিভিন্ন জেলা থেকে বেচা কেনার জন্য আসে। কিন্তু হরতাল অবরোধের কারণে এসব মানুষ আসতে পারছে না। হরতালের দিন সব মার্কেটের গেটে তালা ঝোলানো থাকছে আর অবরোধের দিন অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকানে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চলের সব বড় ও মাঝারি শহরের ব্যবসা বাণিজ্যের হাল হকিকত প্রায় একই রকম।  এমএএস/পিআর