স্ত্রীকে তিনি কতটা ভালোবাসেন এর প্রমাণ হিসেবে নিজের বুক চিরে দেখানোর পরও হতাশ হলেন স্বামী মিন্টু। অবশেষে স্ত্রীকে তার বাপের বাড়িতে রেখেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।গত রোববার বিকেলে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় শিংগা গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটলেও সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে চলে যান মিন্টু। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ফেরদৌস হোসেন মিন্টুর হাসপাতাল ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, কাউকে না জানিয়ে এক প্রকাশ গোপনেই হাসপাতাল ছাড়েন মিন্টু।প্রসঙ্গত, গত রোববার শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রীকে আনতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় শিংগা গ্রামে যান স্বামী অটোচালক মিন্টু। সেখানে স্বামীর সঙ্গে না ফেরার কথা জানান স্ত্রী রাবেয়া। এসময় শ্বশুর বাড়ির লোকজনও রাবেয়াকে যেতে বারণ করেন।সেখানেই স্ত্রীকে কতটা ভালোবাসেন এর প্রমাণ দেখাতে ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর ক্ষত-বিক্ষত করেন মিন্টু। এ ঘটনার পর আহতাবস্থায় মিন্টুকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত মানুষ পাগল স্বামীকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমায়।জানা যায়, ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি করতে গিয়ে রাবেয়ার (২৭) সঙ্গে পরিচয় হয় অটোচালক মিন্টু সরদারের (৩৫)। পরিচয় থেকে প্রেম। তারপর বিয়ে। কিছুদিন আগে ওই দম্পতির ঘরে একটি কন্যা সন্তানেরও জন্ম হয়।এমন অবস্থায় উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং স্বামীকে পাঠিয়ে দেন ডিভোর্স লেটার। কিন্তু স্বামী মিন্টু স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে নারাজ। এমতাবস্থায় শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে মিন্টু নিজের শরীর ব্লেড দিয়ে চিরে ফেলেন।মিন্টু ওরফে সাগর মুন্সীগঞ্জ জেলার দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের নাদের আলী সরদারের ছেলে ও তার স্ত্রী রাবেয়া উপজেলার বড় শিংগা গ্রামের দিনমজুর আবদুল হালিম মৃধার মেয়ে।সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জের ধরে রাবেয়া বেগম বাবার বাড়ি ফিরে আসে। গত ২৪ আগস্ট রাবেয়া বেগম নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে স্বামী মিন্টুকে ডিভোর্স লেটার পাঠায়। ডিভোর্সের খবর পেয়ে স্ত্রী সন্তানকে ফিরিয়ে নিতে ঢাকা থেকে মঠবাড়িয়ায় চলে আসেন মিন্টু।এ ব্যাপারে রাবেয়া বেগম জানান, তার স্বামী একজন নেশা খোর। বিয়ের পর স্বামী মিন্টু তাকে দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করানোর চেষ্টা চালিয়েছেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে একাধিকবার নির্যাতন করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠান তিনি।মিন্টু বলেন, আমি স্ত্রী ও সন্তানকে অনেক ভালোবাসি। ডিভোর্সের খবর শুনে আমি পাগলের মতো আমার স্ত্রীর কাছে ছুটে আসি। আমি ডিভোর্স মানি না। আমি আমার স্ত্রী সন্তানকে ফিরিয়ে নিতে চাই। কতটুকু ভালবাসি এর প্রমাণ দিতেই নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করেছি।এমএএস/আরআইপি