দেশজুড়ে

এবার শোলাকিয়ায় বিজিবিসহ থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।ঈদের দিন শোলাকিয়া মাঠ ও এর আশপাশে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া র‌্যাব-পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

 শুক্রবার বিকেলে শোলাকিয়া ঈগগাহ মাঠ পরিদর্শন করতে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস ও পুলিশ সুপর মো. আনোয়ার হোসেন খান।গত ঈদুল ফিতরে শোলাকিয়া মাঠের পাশে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা জোরদারে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।এবার শোলাকিয়ায় ১৮৯তম ঈদ-উল আযহার জামাতে ইমামতি করবেন মাও. ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এবার ঈদের জামাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে থাকছে বিপুল পরিমাণ র‌্যাব-পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার সদস্য ছাড়াও বিজিবি সদস্যরা। এ ছাড়া সাদা পোশাকের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী মাঠের ভেতরে-বাইরে কাজ করবে।তিনি জানান, এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ। ঈদের দিন মাঠের তিনদিকের সবগুলো প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়া হয়ে। আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে সামনের দুটি গেটে মেটাল ডিটেক্টরে দেহ তল্লাসীর পর মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। থাকবে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা।জেলা প্রশাসক সাংবদিকদের জানান, গত ঈদের অপ্রত্যাশিত হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার মাঠে অতিরিক্ত বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঈদের দিন তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। জেলা প্রশাসক জানান, ঈদ জামাতকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে।প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই ঈদের দিন সকালে শোলাকিয়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। জঙ্গিরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হক নামে দুই পুলিশ কনস্টেবলকে হত্যা করে। পরে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ঘরের ভেতর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিক। একই সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আবির রহমান নামে এক জঙ্গি। পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করে শরিফুল ইসলাম ওরফে শফিউল ইসলাম ওরফে সাইফুল ইসলাম নামে এক জঙ্গিকে। এ সময় পাশ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয় জাহিদুল হক ওরফে তানিমকে। পরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় শফিউল।এ ঘটনায় গত ১০ জুলাই পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। শরিফুল ইসলাম ও তানিমের নাম উল্লেখসহ জঙ্গিদের সহযোগী আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে এ মামলায় আসামি করা হয়।এখন পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এ মালায় তানিম ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে আটক আনোয়ার হোসেন কিশোরগঞ্জের কারাগারে আছে।নূর মোহাম্মদ/এমএএস/আরআইপি