টানা চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত যানজট আর যানবাহনের ধীরগতিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকার প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে গাড়ি চলছে। শনিবার দুপুরের পর থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ যানবাহন চলাচলে মহাসড়কটিতে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী যাত্রী, পরিবহন শ্রমিকসহ আইন শৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীবাহী বাস ও পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য দুই লেনের এই মহাসড়কটিতে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত পুলিশ বিভাগ।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ হাজার যানবাহনের চলাচলের উপযোগী এই মহাসড়ক দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৭টি জেলাসহ টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর ও ময়মনসিংহের প্রতিদিন প্রায় গড়ে ৩০ হাজার যানবাহন চলাচল করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের যানজটের কবলে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টানা চতুর্থ দিনের মতো এ মহাসড়কের এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, ঘারিন্দা, আশেকপুর বাইপাস, তারুটিয়া, নাটিয়াপাড়া, জামুর্কি, পাকুল্যা, শুভুল্লা, মির্জাপুর বাইপাস, দেওহাটা, ধেরুয়া, সোহাগপাড়া, গোড়াই, ক্যাডেট কলেজ ও বোর্ড এলাকায় দেখা দিয়েছে যানজটের ভয়াবহ চিত্র। এছাড়া মহাসড়কের অধিকাংশ এলাকায় যানবাহন চলছে থেমে থেমে। তবে শনিবার ভোর থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ভূইয়া জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৭টি জেলাসহ মোট ২১ জেলার প্রায় ২৭ হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচলে মহাসড়কে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের সম্প্রসারণ, কয়েকটি ফ্লাইওভারের কাজ, দুর্ঘটনা এবং গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় মহাসড়কের মাঝে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি যানবাহনের ওভার ট্রেকিং যানজটের একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওসি নাজমুল হক ভূইয়া আরো জানান, যানজট নিরসন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, জেলা পুলিশ, আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। যানজটের প্রধান মুহূর্তগুলো প্রায় শেষ। খুব শিগগিরই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলেও জানান তিনি। আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আরআইপি