ছেলে বাড়ি ফিরবে। সঙ্গে বউ এবং নাতিরাও। সেই অপেক্ষায় ছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা। ছেলে ঠিকই ফিরেছে। কিন্তু লাশ হয়ে। মুহূর্তেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। মরদেহ ঘিরে তার গ্রামের বাড়ি এখন শোকের মাতম। কিছুতেই থামছে না গার্মেন্টকর্মী সুলেমানের স্বজনদের কান্না। গতকাল শনিবার টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীর ট্যাম্পাকো কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যে ২৫ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে সুলেমান তাদেরই একজন। বাবা-মাকে কথা দিয়েছিলেন পরিবার ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরবেন। সুলেমানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আনুহা গ্রামে। ঈদের আনন্দের পরিবর্তে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীর ট্যাম্পাকো কারখানায় স্টোর শ্রমিকের কাজ করতেন সুলেমান (৩৫)। গত ছয় বছর ধরে সেখানে কাজ করেন তিনি। স্ত্রী নাছিমা, ছেলে নাসির (১০) ও মেয়ে লামিয়াকে (২) নিয়ে টঙ্গী পৌরসভার পূর্ব আরিচপুর এলাকার শহীদ স্মৃতি স্কুল রোডে ইউসুফ কন্ডাক্টরের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন তিনি। শনিবার ভোরে সুলেমান ট্যাম্পাকো কারখানায় বেতন-বোনাস আনতে গিয়েছিলেন। এ সময় কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় তার সব স্বপ্ন।রোববার ভোরে গ্রামের বাড়িত আনা হয় মরদেহ। এ সময় সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।নিহত সুলেমানের বাবা করিম বক্স, মা খাদেজা বানু আর স্ত্রী নাছিমা খাতুন শোকে স্তব্ধ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিকে হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা। সুলেমানের দরিদ্র পরিবারের পাশে এসে দাঁড়াবেন সমাজের বিত্তবানরা এমন আশা গ্রামবাসীর।নূর মোহাম্মদ/এএম/পিআর