নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার ১২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মন্ডলের জেরা শুরু হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা শেষে আদালত আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২৩ আসামির উপস্থিতিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মন্ডলকে জেরা করা হয়।জেরার প্রথম দিনেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করে চাপে রাখতে দেখা গেছে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের। এসময় আসামিপক্ষের আইজীবীর আপত্তিকর প্রশ্নে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে, সাত খুনের দুটি মামলায় প্রধান আসামি ও একসময়ের সন্ত্রাসীর গডফাদার নূর হোসেনসহ র্যাবের চাকুরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয় এবং তাদের উপস্থিতিতেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করার সময় র্যাবের কর্মকর্তা লে. কর্নেল জিয়াকে কেনো সাক্ষী করা হলো না জানতে চাইলে জবাবে মুনুর রশিদ সঠিক উত্তর দিতে না পারলেও যাকে সাক্ষী করার তাকে ঠিকই সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এসময় জেরায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ মিয়া সম্মোধন করায় উপস্থিত অনেকে হতভাগ হয়ে উঠেন। র্যাবের নারায়ণগঞ্জের আদমজি ও পুরাতন কোর্ট এলাকার দফতরগুলো থেকে যখন র্যাবের কর্মকর্তাদের গাড়ি বের হয় তখন সেখানে রেজিস্ট্রার খাতায় লিপিবদ্ধ, সিসি (কমান্ডিং সার্টিফিকেট) পূরণ করা হয়েছিল কিনা কিংবা সেগুলো কেনো জব্দ করা হয়নি জানতে চাইলে ঘটনার দিন কোনো ধরনের রেজিস্ট্রার খাতা মেইনটেন করা হয়নি বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। জানা গেছে, সাত খুনের ঘটনায় সোমবার প্রথম জেরা গ্রহণ করা হয়। আসামি আরিফ হোসেনের পক্ষে অ্যাড. এমএ রশিদ ভূইয়াসহ আইনজীবীরা জেরাতে অংশ নেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, বাদী পক্ষে সাখাওয়াত হোসেন খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, প্রথম দিনই আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কিছুটা আক্রমণাত্মক অবস্থায় দেখা গেছে। যেভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে শালীনতা বজায় রাখা হয়নি। পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার জেরা শেষে আদালত আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আবারও পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেছেন। শাহাদাত হোসেন/এফএ/এবিএস