দেশজুড়ে

পাকশী পেপার মিলসে মাসে লোকসান ১০ লাখ টাকা

নির্বাচনী ইস্তেহার ও টেলিকনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার আট বছর পার হয়ে গেলেও চালুর কোনো উদ্যোগ নেই উত্তরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরদীর পাকশী নর্থবেঙ্গল পেপার মিলস। অথচ মিলের ৯১ জনকে বসিয়ে রেখে বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৭/৮ লাখ ও বিদ্যুত বিল বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকাসহ প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা লোকসান দিচ্ছে সরকার।২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাবনায় এক টেলিকনফারেন্সে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন তার সরকার ক্ষমতায় গেলে পাকশী পেপার মিল চালু করা হবে। পরে সরকার ক্ষমতায় এলে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. শামসুল হক টুকু এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী সেই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ঘটাতে ঈশ্বরদীর পাকশী পেপার মিল পরিদর্শন করে অচিরেই তা চালুর ঘোষণা দেন। কিন্তু সেই ঘোষণারও সাত বছর অতিবাহিত হলেও পাকশী নর্থবেঙ্গল পেপার মিল চালুর কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না মিল কর্তৃপক্ষ। পাকশী পেপার মিলে সরেজমিন খোঁজ নিতে গেলে মিল কর্তৃপক্ষ এ প্রতিনিধিকে জানান, মিল চালুর ন্যুনতম কোনো অগ্রগতির খবর তাদের কাছে নেই। মন্ত্রীদের ঘোষণায় আশার আলো দেখতে পেয়েছিল ঈশ্বরদীবাসী অথচ ৯ বছর আগে তৎকালীন জোট সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া এই পেপার মিলে তিন মন্ত্রীর পরিদর্শন ও ঘোষণার আট বছর পেরিয়ে গেলেও পাকশী পেপার মিল চালুকরণের কোনো খবর না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ জানান ঈশ্বরদীবাসী ও খোদ মিলের কর্মকর্তারা। তথ্য সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালের ৩০ নভেম্বর এই মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর বিগত নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও মিলটি চালু করতে পারেনি। এক পর্যায়ে বেসরকারিভাবে চালুর প্রক্রিয়া হিসেবে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের মাধ্যমে মিলটি বিক্রি করার জন্য একাধিকবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। একটি গ্রুপ অব কোম্পানি ৫২ কোটি টাকায় দরপত্র দাখিল করলে সেটিও বাতিল হয়, পরবর্তিতে এই টেন্ডার নিয়ে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের সঙ্গে মামলাও হয়। বিজিএমসি, চিনা প্রতিনিধিদলসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও একাধিকবার মিলটির খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। অথচ মিলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত মিল চালুর বিষয়ে কোনো প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি, ওইসব পর্যবেক্ষণ আর ঘোষণার বাস্তব কোনো পদক্ষেপ এখনো গ্রহণ করেনি সরকার।পাকশী পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবসার উদ্দিন আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত মিল চালুর কোনো খবর তাদের কাছে নেই। মিলটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে এখনো এম.ডি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষকসহ ৩ জন কর্মকর্তা, ১৮ জন কর্মচারী, ১০ জন সিকিউরিটি এবং ৬০ জন আনসার মিলিয়ে ৯১ জনের বেতন বাবদ ৭/৮ লাখ এবং বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকাসহ প্রতি মাসেই প্রায় ১০ লাখ টাকা অযথাই গুনতে হচ্ছে সরকারকে। এক সময়ের জমজমাট মিল এলাকা এখন পরিণত হয়েছে বিরাণভূমিতে। যন্ত্রপাতি-ভবনসহ স্থাপনা ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে, বিশাল এলাকার জমি-জমাও ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের। এফএ/এবিএস