এক নবজাতককে চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পর দাফনের আগ মুহূর্তে কেঁদে ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটিকে ইনকিউবিউটরে রাখা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার নাজমুল হকের স্ত্রী নাজনিন আক্তার নামের এক প্রসূতি চিকিৎসা নিতে ফরিদপুর ডা. জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে আসেন। সে সময় ডা. রিজিয়া আলম তার চিকিৎসা দেওয়া অবস্থায় নবজাতক শিশুর জন্ম হয়। পরে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন ডা. রিজিয়া আলম। শিশুটির নানা আবুল কালাম মিয়া জানান, তার মেয়েকে গত রাতে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানে বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার আধা ঘণ্টা পর চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শিশুটিকে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে কার্টনে করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরের আলীপুর গোরস্থানে দাফন করতে যায়। গভীর রাতে কবরস্থানে কাউকে না পেয়ে শিশুটিকে একটি বাঁধানো কবরের মধ্যে রেখে বাড়ি চলে যায়। আলীপুর কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা মো. হিরণ শেখ জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির নানা দাফনের জন্য কবরস্থানে আসেন। কবর খোড়ার পর গোরস্থান মসজিদের হুজুর কার্টনের মধ্যে থেকে পেঁচানো কাপড়টি খুললে শিশুটি নড়াচড়া করে ওঠে। দ্রুত শিশুটিকে নিয়ে আবার শিশু হাসপাতাল নিয়ে যান শিশুটির নানা। এ ঘটনায় হাসপাতালে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। এ বিষয়ে গাইনি চিকিৎসক ডা. রিজিয়া আলম জানান, আমি এই হাসপাতালের নিয়মিত ডাক্তার না। গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমার এক রোগীকে অপারেশন করার সময় ওই প্রসূতি আসে। তাকে এখানে ভর্তি রাখা যাবে না বলেও জানানো হয়। কিন্তু বিনাচিকিৎসায় রোগীটি মারা যাবে? স্বজনরা এমন কথা বললে আমি তার চিকিৎসা দেই। সে সময় ৫ মাস ২২ দিন বয়সের সন্তান প্রসব করে ওই নারী। নবজাত শিশুটিকে পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে জানাই। এটি একটি অলৌকিক ঘটনা বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যনিবাহী সদস্য মো. সালাউদ্দিন ফরিদ। তবে এ ব্যাপারে চিকিৎসক ও নার্সদের কোনো গাফলতি থাকলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। তরুন/এফএ/এবিএস