২০১১ সালে বাগেরহাটে ডাকাতি ও হত্যার দায়ে একজনের ফাঁসি এবং চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় দেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল শেখ (২৬) জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার সানকি ভাঙা গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় সোহেল শেখ ছাড়া অপর আসামিরা পলাতক ছিলেন।মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৯ জুন রাতে আসামিরা বাগেরহাট সদর উপজেলার ফুলবাড়ি স্টিল ব্রিজ এলাকায় বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে তারা পালিয়ে যাচ্ছিল। আহতরা ফোনে খবর দিলে গ্রামবাসী মহাসড়কের মহাদেবের মোড় এলাকায় রাস্তায় অবস্থান নেয়। আসামিরা ওই এলাকায় পৌঁছে মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বড় পাইকপাড়া গ্রামের জনৈক শাহিন শেখের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যায়। এ সময় শাহিন অস্ত্রসহ তাদেরকে দেখে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে আসামি সোহেল শেখ কুপিয়ে শাহিনকে হত্যা করে। পরে স্থানীয় জনতা আসামি সোহেল ও তুহিনকে আটক করে পুলিশে দেয়। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বাগেরহাটের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কাজী মনোয়ার হোসেন জানান, পরদিন ৩০ জুলাই মোটরসাইকেলের মালিক গৌরঙ্গ দেবনাথ বাদী হয়ে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি ডাকাতি ও হত্যার মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১২ সালের ৩১ মে আদালতে পাঁচজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার কাজ শুরু করে। মামলায় সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।শওকত আলী বাবু/এএম/পিআর