দেশজুড়ে

সেই শিশুর দাফন সম্পন্ন

দাফনের আগে কেঁদে ওঠা শিশু গালিবা হায়াতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বাদ আসর ফরিদপুরের চাঁনমারি ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে আলীপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। শিশু গালিবা হায়াতের নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন চাঁনমারি ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আদিল উদ্দিন। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে শহরের আলীপুর কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।গালিবা হায়াতের দাদা আবুল কালাম মিয়া বলেন, এক হৃদয়বান ব্যক্তির সহায়তায় হেলিকপ্টারে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত রাতে সে মারা যাওয়ার পর সকালে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গালিবা হায়াতের মরদেহ ফরিদপুরে এনে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে শহরের কমলাপুর এলাকার নাজমুল হুদার স্ত্রী নাজনীন আক্তার (২৩) প্রসব বেদনা নিয়ে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে সিট না থাকায় তাকে দেখতে চাননি চিকিৎসক। এরপর হাসপাতালের ডক্টরস রুমের বেডেই রাত আড়াইটার দিকে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়। সেখানে গাইনি চিকিৎসক রিজিয়া আলম শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে। পরে তার কথামতো একটি কার্টনে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে আলিপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। এরপর সেখানে দাফনের ব্যবস্থা না হওয়ায় একটি কবরের ওপর শুইয়ে রাখেন। সকালে দাফন করতে গেলে শিশুটি কেঁদে উঠে। পরে তাকে ফের হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শিশুটির স্বজন ও শহরের সচেতন মানুষ চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনে তার বিচার চান। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্তের জন্য শুক্রবার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীমকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। আগামী তিনদিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।এস.এম. তরুন/এআরএ/পিআর