আজ ২৭ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)। ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজসেবক, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারী জাতীয় বীর শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের ৩২তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বৈরশাসক হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের পতন ও গণতন্ত্র প্র্রতিষ্ঠার জন্য সারাদেশে ২২ দল আহুত হরতালের আহ্বান করে। গাজীপুরের কালীগঞ্জে এরশাদের পতন ও গণতন্ত্র প্র্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মিছিলে শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্ব দেন। ওই সময় কালীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের লেলিয়ে দেয়া কতিপয় সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের ৩২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শহীদের কবরে শ্রদ্বাঞ্জলি প্রদান ও আলোচনা সভা, সকাল সাড়ে ১০টায় কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে মিলাদ ও দোয়া, বেলা ১১ টায় কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে শহীদ ময়েজ উদ্দীন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান।এছাড়া দুপুর ১২ টায় উপজেলার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দেওপাড়া গ্রামে শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু সংলগ্ন ফেরিঘাটে দোয়া, মিলাদ ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরন, দুপুর ১টায় মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া শহীদ ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দোয়া ও মিলাদ।বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টায় কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মরণসভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ ১৯৩০ সালে ১৭ মার্চ বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়হরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছুরত আলী এবং মাতা শহরবানু। তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপির বাবা। তিনি ঐতিসাহিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা করার জন্য গঠিত ‘মুজিব তহবিলের’ আহ্বায়ক ছিলেন। একজন বিচক্ষণ আইনজীবী ও রাজনীতিক হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তিনি ওই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। ময়েজউদ্দিন আহমেদ উল্লেখযোগ্য সময় ধরে বৃহত্তর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গাজীপুর-কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে যথাক্রমে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৭ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ রেডক্রস (বর্তমানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট) সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। একাধারে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি)’র মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ধাপে ধাপে গড়ে উঠা প্রবল গণআন্দোলনে অবশেষে সামরিক শাসক ও শাসনের পতন ঘটে। গণতন্ত্রের জয় হয়।মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান `স্বাধীনতা পদক` এ ভূষিত করেন। আব্দুর রহমান আরমান/এসএস/পিআর