দেশজুড়ে

ছবি এঁকে হাদিসার বিশ্বজয়

ছবি এঁকে বাংলাদেশের জন্য অন্য রকম এক গৌরব বয়ে এনেছে বরগুনার প্রত্যন্ত গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাদিসা আক্তার। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে সে।বিশ্বের ১৪ টি দেশের অসংখ্য শিশু-কিশোরদের পাঠানো ছবির মধ্য থেকে রোমে চূড়ান্ত পর্বে সেরা আটটি ছবির মধ্যে একটি ছবি হাদিসার।বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম কালীবাড়ী। এ গ্রামেরই দরিদ্র রিকশাচালক আজহার সরদারের মেয়ে হাদিসা। দরিদ্র পরিবারের নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও চলে তার পড়াশোনা। একই সঙ্গে চলে আঁকাআঁকিও। হাদিসার বাবা আজহার সরদার পেশায় রিকশাচালক। থাকেন চট্টগ্রামে। মাস গেলে আজহার সরদার যে টাকা পাঠান তা দিয়ে সংসার চলে না হাদিসা ও তার মা সাজু বেগমের। ২০১৫ সালে হাদিসা তার স্কুলে জমা দেয় তার আঁকা একটি ছবি। উপজেলা জেলা অতঃপর ঢাকা হয়ে সে ছবি জমা হয় রোমে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আয়োজিত চিল্ড্রেন ডিজাইন কমপিটিশিনে। সেখানে প্রথম আটটি ছবির মধ্যে নির্বাচিত হয় হাদিসার ছবিটি। হাদিসার এমন অর্জনে গর্বিত তার শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।বুধবার হাদিসার পূর্ব কালিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডাব্লিএফপির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাদিসাকে পুরস্কৃত করতে অন্য রকম এক সাজে সাজানো হয় পূর্বকালিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে। বিদ্যালয়ের ওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয় হাদিসার আঁকা ছবি। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল ইসলাম চৌধুরী, সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডাব্লিউএফপি) প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন পাটোয়ারী।আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক এসএম ফারুক, বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল আহমেদ, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম হায়দার এবং পূর্ব কালিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান। উল্লেখ্য, ডাব্লিউএফপির স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় বিশ্বের ১৪টি দেশের চূড়ান্তভাবে বাছাই করা ২০ শিক্ষার্থীর ৭০টি ছবি পাঠানো হয় রোমে। সেখানে চূড়ান্ত বিচারে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় বরগুনার হাদিসা আক্তার ও বাগেরহাটের বর্ণালী বাগচী।সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এসএস/এমএস