গাজীপুরে ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার ভিতর থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বেলা ২টার দিকে কারখানার ছয়তলা ভবনের নিচ তলায় ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং উদ্ধার কাজে নিয়োজিত কর্মীরা আংশিক দেহাবশেষটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ১৯ দিন ধরে চলা উদ্ধার কাজে সরকারি হিসাব মতে, এ পর্যন্ত ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি হিসাবে নিখোঁজ রয়েছে একজন শ্রমিক। আর ডিএনএ পরীক্ষার পর যদি বুধবার উদ্ধার করা দেহাবশেষটির সঙ্গে নিখোঁজ কোনো শ্রমিকের স্বজনদের ডিএনএ মিলে যায় তাহলে আর কোনো শ্রমিক নিখোঁজ নেই বলে ধরে নেয়া যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কন্ট্রোল রুম সূত্র।জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আকতারুজ্জামান জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর যেখান থেকে তিনটি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল সেখান থেকেই এক খণ্ড দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা দেহখণ্ডটি নিহত ওই শ্রমিকদের নাকি নিখোঁজ অন্য কোনো শ্রমিকের তা তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।উল্লেখ্য, টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীতে সাবেক সাংসদ সৈয়দ মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই কারখানার বিশাল ভবনের অধিকাংশই ধসে পড়ে বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ট্যাম্পাকো দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ শনাক্ত হয়েছে ৩২ জনের। নিখোঁজ রয়েছে আরো ৮ জন। এর মধ্যে ঢামেক মর্গে মরদেহ রয়েছে ৭ জনের। ওই সাত মরদেহের পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এজন্য ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে স্বজনদের।টঙ্গী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ট্যাম্পাকো দুর্ঘটনা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমন ভক্ত বলেন, উদ্ধার করা দেহ খণ্ডটি শনাক্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।দুর্ঘটনার পর গাজীপুর জেলা প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস, বিসিক ও বিদ্যুৎ বিভাগ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। এদিকে ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানার দুর্ঘটনায় তিতাসের উচ্চ পর্যায়ের গঠিত তদন্ত কমিটি গত ২৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জামা দিয়েছেন। দুর্ঘটনার ১৯তম দিনে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। সেনাবাহিনী ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধসে যাওয়া ভবনের বর্জ্যগুলো অন্যত্র সরাচ্ছেন।কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার মালিক সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে টঙ্গী মডেল থানায় এ পর্যন্ত দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর কারখানা মালিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করেন নিহত শ্রমিক জুয়েলের বাবা আব্দুল কাদের। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী বাদী হয়ে কারখানা মালিকসহ ১০ জনকে আসামি করে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি। তবে আসামিদের গ্রেফতারের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার।আমিনুল ইসলাম/এফএ/আরআইপি