দেশজুড়ে

হতদরিদ্রদের চাল কেনার অভিযোগে আ.লীগ নেতার দণ্ড

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে বুধবার উপজেলা প্রশাসন দিনভর ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসায়ী সুবিধাভোগীদের জেল-জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত আমরুল ইউনিয়নের নগরহাট এলাকায় হতদরিদ্রদের কাছ থেকে চাল কেনার অভিযোগে ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি হাফিজার রহমানকে তিন দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এসময় নগরহাট এলাকা থেকে ১১টি বস্তায় প্রায় অর্ধ টন চাল জব্দ করা হয়। এর আগে দুপুর দেড়টায় উপজেলার খরনা ইউনিয়নের দাড়িগাছা বন্দরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও শাফিউল ইসলাম। এসময় তিনি হায়দার আলী নামে এক ব্যক্তির দোকান থেকে ৮১০ কেজি চাল জব্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হায়দার আলীকে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এদিকে, চাল বিক্রির অপরাধে দাড়িগাছা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের কুলসুম বেগম (কার্ড নং ১০৬৮), কহিনুর বেদম (কার্ড নং ১০৭২), মনোয়ারা বেগম (কার্ড নং ১০৭৫), চায়না খাতুন (কার্ড নং ১০৬৯) এবং আব্দুর রশিদ (কার্ডনং ১০৫৭) নামের ৫ জন সুবিধাভোগীর কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও বিকেল ৩টার দিকে চোপীনগর ইউনিয়নের বড়পাথার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম জাকির হোসেন বড়পাথার বাজার এলাকার একটি গুদাম ঘর থেকে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেয়া সাড়ে ১১শ কেজি চাল আটক করেন। অভিযানকালে গুদাম মালিক কচুয়াদহ গ্রামের মৃত খুকু মিয়ার ছেলে ঠান্ডা মিয়া (৫২) পলাতক ছিলেন।শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত (ইউএনও) শাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি ‘সুলভ মূল্যে চাল বিক্রি’র সুফল যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা পান এবং জনকল্যাণমূলক এ কর্মসূচি সফল করার ক্ষেত্রে কোনো স্বার্থন্বেষী মহল বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।                     উল্লেখ্য, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৯২৩৬টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। সে হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে দুইজন করে মোট ১৮ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। এআরএ/আরআইপি