দেশজুড়ে

পালিত সন্তান হওয়ায় চুল কেটে দিল শাশুড়ি

ভোলা হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ৭৭ নং বেডে বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতেনর শিকার নববধূ রিমা বেগম। চুল কেটে ও গায়ে আগুন ধরিয়ে নির্যাতন করা হয় তার উপর। রিমার অপরাধ শৈশবে তাকে দত্তক তার বর্তমান মা। এমন খবর শুনেই শাশুড়ি রিমাকে মেনে নিতে পারেন নি। রিমা  আলতাজের রহমান ডিগ্রি কলেজের স্নাতক পাশ কোর্সের মেধাবী ছাত্রী । ৫ মাস আগে ১৩ এপ্রিল ভালোবেসে রুবায়েত হোসেন দিপুকে বিয়ে করেন তিনি। রিমা জানান, দিপু জেলা সদরের খলিফাপট্টি মসজিদ মার্কেটের হোমিও ওষুধের দোকনের স্টাফ। কিন্তু বিয়ের আগে সে নিজেকে হোমিও ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিত। দিপুর বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিনে হলেও বর্তমানে তার মা ও ভায়েরা  চট্টগ্রামে থাকেন। ২ মাস আগে দিপু নববধূকে নিয়ে চট্টগ্রামের অংকার এলাকায় মা ও ভাইদের বাড়িতে গেলে শুরু হয় নতুন ইতিহ্সা। রিমা তার প্রকৃত মায়ের নাম জানে না। ছোট বেলায় বর্তমান মা শাহানুর বেগম তাকে দত্তক নেন। একথা জেনেই রিমাকে মেনে নিতে পারিনি তার শাশুড়ি রহিমা বেগম ও দিপুর ভায়েরা। শুরু হয় অত্যাচার নির্যাতন। ঈদের আগে রিমার মাথার চুল কেটে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষরও করিয়ে নেয়। যৌতুক হিসেবে ২ লাখ টাকা না দিলে যেন আর শ্বশুরবাড়ি না আসে এমন শর্তেই সাক্ষর করতে বাধ্য হয় রিমা। ২ দিন আগে দীপু রিমাকে ভোলায় এনে শ্বশুরবাড়ির কাছাকাছি রেখে চলে যায়। রিমা এসব ঘটনা জানাতে তাদের বিয়েতে উপস্থিত থাকা দিপুর মামা হোমিও চিকিৎসক মো. জাকির ভোলার ওয়েস্টার্ন পাড়া বাড়িতে গেলে সেখান থেকেও তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার আহত ও অসুস্থ রিমাকে তার স্বজনরা ভোলা হাসপাতালে এনে ভর্তি করান। এ প্রতিবেদকের কাছে এমন নির্যতনের কাহিনী বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিমা। এমনকি তার উপর নির্যাতনের চিহ্ন দেখাতেও কুণ্ঠাবোধ করেন তিনি। তবে চট্টগ্রামে চলে যাওয়া দীপুর মোবাইল ফোনে কল দিলে তার মা রহিমা বেগম ফোন ধরেন। তিনি জানান, দিপু বাইরে আছে। রহিমা অত্যাহার নির্যাতনের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, মা-বাবা নেই জেনে রিমাকে নিজের মেয়ে বলেই মেনে নেন। রিমার চুল ছোট থাকায় তার সম্মতিতেই চুল ফেলে দেন বলেও জানান। এছাড়া পরীক্ষার জন্য রিমাকে ভোলায় রেখে আসে দিপু এমন দাবি রহিমা বেগমের। পরে দিপু ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, রিমা নিজের ইচ্ছাতেই চুল কাটে ও নিজেই গায়ে আগুন লাগায়। রিমাকে তালাক দেয়নি। তাকে সে ভালোবাসে বলেও জানায়।  ভোলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃহস্পতিবার রাতে জানান, রিমাকে আঘাত প্রাপ্ত অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। অমিতাভ অপু/এফএ/এমএস