বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী ইব্রাহীম হোসেন ওরফে সবুজ হত্যার ঘটনায় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ইব্রাহীমের চাচা হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আছলাম আলী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, শুক্রবার রাতেই অভিযান চালিয়ে নয়ন (২৭) ও শাহ আলম (৩২) নামে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দুইজনের বাড়ি শহরের ফুলবাড়ি এলাকায়। এছাড়া ঘটনার পর আটক সন্দেহভাজন আরো দুই যুবকের মধ্যে সুনীলকেও (২৪) মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে জীবন (২৫) নামের অপর একজনকে।ওসি আরো জানান, নুরুল ইসলাম নুরুকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর সে আত্মগোপন করায় এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।রিকশা ভাড়া নিয়ে বিতাণ্ডার জের ধরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন এলাকায় কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বগুড়া শহরের ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে তার সহযোগীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন কলেজের বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র এবং ছাত্রলীগের কর্মী ইব্রাহীম হোসেন সবুজ। ইব্রাহীম হোসেনের বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলার লহড়াপাড়া গ্রামে। পুলিশের দাবি, নুরুল ইসলাম শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বালু দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় এক যুবককে হত্যাচেষ্টা চালান তিনি। এসময় তার কাছ থেকে ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারাসহ দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।এআরএ/আরআইপি