দেশজুড়ে

টাঙ্গাইলে সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সরকার নির্ধারিত ১০ টাকা কেজির চাল সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুবিধাভোগী কার্ডধারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে রোববার সকালে নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নে গেলে সুবিধাভোগী কার্ডধারীরা অভিযোগ করে বলেন, শনিবার ১০ টাকার চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে তারা ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা তাদের কার্ড হাতে নিয়ে নিজেদের প্রাপ্য পেতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।  বিক্ষোভকারী পুকুরিয়া গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া (৩০) জানান, আমাদের নামে সরকারের বরাদ্দকৃত ১০ টাকা মূল্যের চাল আমাদের না দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ডিলার।বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রথমবার চাল দেয়ার কথা বলে সকলের কাছ থেকে কার্ড জমা নেয়া হয়। তবে চাল না দিয়েই চাল বিতরণ করার কথা উল্লেখ করে কার্ডে ভুয়া স্বাক্ষর করে ফেরত দেয়া হয়। আর এভাবেই বিতরণের নামে নির্ধারিত ৩২ টন চাল আত্মসাত হয়েছে। এবারের প্রথম দফার ১৬ টনের মধ্যে ১৩ টন চালই উপজেলা থেকে ডিলারদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী আবুল কাশেম চাল ক্রয়ের কথা স্বীকার করেন।   উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথমবার ১ হাজার ৫৬ জন কার্ডধারীর জন্য চাল উত্তোলন করা হয় ৩২ টন। দ্বিতীয় বারের প্রথম দফায় চাল উত্তোলন করা হয় আরো ১৬ টন। এ নিয়ে এই ইউনিয়নের সুবিধাভোগী কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণে জন্য মোট ৪৮ টন চাল উত্তোলিত হয়েছে।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ ইলাহী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু সরকারি একটি প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করায় আমি ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। তবে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে অভিযোগকারীদের হাজির করতে। তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ প্রকল্পে কোনো প্রকারের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।আরিফ উর রহমান টগর/এসএস/এবিএস