সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জাতীয় পরিচয়পত্র ও তালিকা হাতে নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন কয়েকশ হতদরিদ্র মানুষ। আধঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। হতদরিদ্র এসব ভোক্তা জানান, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও গত সেপ্টেম্বর মাসে চাল দেননি পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ভুট্টোর স্ত্রী ডিলার ফেরদৌস আরা। এসব মানুষের দাবি, ডিলার ফেরদৌস আরা ও তার স্বামী ভুট্টো মিলে গরিবের চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ কারণে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। এদিকে পূর্ব সাতবাড়িয়া গ্রামের ইউনুস আলী প্রামাণিক জানান, ডিলার ফেরদৌস আরা তার সামনে বেশ কজন ভোক্তাকে চালের পরিবর্তে ৩০০ টাকা করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন জানান, পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নে দুজন ডিলারের মাধ্যমে ১ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে স্বল্পমূল্যের চাল বিতরণ করার কথা। কিন্তু ডিলার আইয়ুব আলী ফরিদ তার এলাকায় সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করলেও অপর ডিলার ফেরদৌস আরার বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন ভোক্তারা। গত কদিন ধরেই তারা চাল ফিরে পাওয়ার দাবিতে ইউনিয়ণ পরিষদে ঘোরাফেরা করছেন। মূল তালিকায় এসব ভোক্তাদের নাম রয়েছে অথচ তাদের চাল দেয়া হয়নি।তিনি আরও জানান, বেতকান্দির তালিকাভুক্ত ৭২ জন্যের মধ্যে ৭০ জনকেই চাল দেয়া হয়নি। এছাড়াও দমদমা, কালিগঞ্জ, শাহীকোলা, কাজিপাড়া, কালিগঞ্জ, বনবাড়িয়া, ভদ্রকোল, রাঘববাড়িয়া, চর পেচড়া ও শাহজাহানপুর গ্রামের অধিকাংশ হতদরিদ্র মানুষ স্বল্পমূল্যের চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অপরদিকে সাখাওয়াত নামের কোনো গ্রাম না থাকলেও ওই গ্রামের ১৫ জনের নামে একটি ভুয়া তালিকা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।এ বিষয়ে ডিলার ফেরদৌস আরার স্বামী ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এরই অংশ হিসেবে গত সেপ্টেম্বর মাসে তার দেয়া তালিকার ভোক্তাদের চাল নিতে আসতে বাধা দেন। এ কারণে ওইসব মানুষ চাল পায়নি। তিনিই রোববার তাদের নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।উলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মারুফ বিন হাবিব জানান, চেয়ারম্যান বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে বলেছিলেন। আমি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বরাবর অভিযোগ দিতে বলেছি। এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত একটি প্রকল্প। এখানে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।এফএ/আরআইপি