দেশজুড়ে

নেত্রকোনায় ৫ শিক্ষার্থী ১১ দিন ধরে নিখোঁজ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শিক্ষার্থী ১১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। ১ অক্টোবর নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা আর ফেরে নি। স্বজনরা নানা স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে ৬ অক্টোবর অভিভাবকরা পূর্বধলা থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ ও নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১ অক্টোবর সকালে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী মাদরাসা ও স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা বাড়ি ফিরেনি। নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো-পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ বাজার সংলগ্ন মহিষবেড় গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আরিফ মিয়া (১৪), ফরিদ মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেন (১৫), হেলাল উদ্দিনের ছেলে নয়ন মিয়া (১৪), আইনুদ্দিনের ছেলে মো. হৃদয় (১৩) ও হামেদ আলীর ছেলে রবিকুল ইসলাম (১৩)। এদের মধ্যে বেলাল হোসেন শ্যামগঞ্জের শালদীঘা তালি-ই-মাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে ও নয়ন মিয়া একই মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আর অপর তিনজন শ্যামগঞ্জের জালশুকা-কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। পাঁচজনের মধ্যে বেলাল ও নয়ন সম্পর্কে আপন চাচাত ভাই। আরিফ তাদের ভাতিজা। অন্য দুজনের বাড়িও তাদের পাশাপাশি। নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থী বেলালের সঙ্গে একটি মুঠোফোন ছিল। নিখোঁজের দিন ও এর পরদিন ওই নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেনি। পরবর্তী সময় থেকে ফোন নম্বরটির সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।   জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হওয়ার দিন শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেনে ওঠেছে বলে স্থানীয়রা দেখতে পেয়েছে। শিক্ষার্থী বেলালের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের নম্বরটি ট্র্যাকিং করে ঢাকার কাকরাইল এলাকায় একটি মসজিদে অবস্থান করছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানে তাদের স্বজনদের নিয়ে গেলেও আর সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ আরিফের নানী জুলেখা বেগম জাগো নিউজকে জানান, আমার নাতিসহ নিখোঁজ হওয়া ওই চারজন সবাই শান্ত এবং সহজ, সরল স্বভাবের। এরা এক সঙ্গে খেলাধুলা করতো। জানি না এদের ভগ্যে কি আছে? আমরা প্রত্যেকটি পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় আছি।  পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, নিখোঁজ হওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে জিডি করা হয়েছে। তাদের সন্ধানের চেষ্টা চলছে। তাদের সঙ্গে কোনরূপ জঙ্গি সম্পৃক্ততা কিংবা অপহরণের শিকার হওয়ার তথ্য আমাদের জানা নেই। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জাগো নিউজকে জানান, নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সর্ব্বোচ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের ব্যাপারে খবর পাঠানো হয়েছে। কামাল হোসাইন/এসএস/এবিএস