বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবকে ঘিরে মুখর হয়ে উঠেছে রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদ। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিনমাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব অনুষ্ঠানের পর পরই শুরু হয়েছে মাসজুড়ে কঠিন চীবর দানোৎসব। ১৪-১৫ অক্টোবর জেলার জুরাছড়ি উপজেলার আমতলী ধর্মোদয় বন বিহার এবং সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গার শাক্য বন বিহারে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বৌদ্ধদের এ ধর্মীয় মহোৎসবটির। রাঙামাটিতে সবশেষে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হবে ১১-১২ নভেম্বর সদর উপজেলার সাধনানন্দ বন বিহারে। তার আগে ১০-১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি রাজবন বিহারে। রাজবন বিহারের সময়সূচি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।এদিক, জেলার জুরাছড়ির শিলছড়ি বন বিহার এবং নানিয়ারচরের মংলা বন বিহারে দুই দিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব শনিবার শুরু হয়ে শেষ হয়েছে রোববার। একই সঙ্গে উৎসবটি রোববার শুরু হয়ে সোমবার শেষ হবে রাঙ্গামাটি সদরের কুতুকছড়ি নির্বাণপুর বন বিহার, কাটাছড়ি বন বিহার, জুরাছড়ির ফকিরাছড়ি বন বিহার, বরকলের লতিবাঁশ ছড়া বন বিহার ও পানছড়ি হারুণবিল বন বিহারে। এছাড়া বনভান্তের উত্তরসুরি শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির পরিচালিত সদরের যমচুগ বন ভাবনা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিহার এবং পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ পরিচালিত বৌদ্ধ মন্দিরগুলোয় প্রতিদিন আয়োজন চলছে উৎসবটির। উৎসবে নামছে পুণ্যার্থীর ঢল। চীবর ও কল্পতুরুর (টাকাসহ দানীয় সামগ্রি সম্ভার) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উৎসবটির আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। উৎসবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৌদ্ধভিক্ষুর পরিধেয় বস্ত্র বুনন ও তৈরি শেষে দানকার্য সম্পাদন, বুদ্ধ পূজা, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, উৎসর্গ, বুদ্ধমূর্তি দান, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ফানুস উত্তোলনসহ ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহাপূণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে চীবর তৈরি করে গৌতম বুদ্ধকে দান করেন। বিশাখা প্রবর্তিত হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নিয়মে প্রতি বছর রাঙামাটিসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে কঠিন চীবর দানোৎসবটির আয়োজন করে থাকেন বৌদ্ধরা। সুশীল প্রসাদ চাকমা/এসএস/আরআইপি