দেশজুড়ে

মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ নেই মাঠে

জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। অনেকে প্রকাশ্যে গণসংযোগ না করলেও দলীয় সর্মথন পেতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না পাওয়ায় নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে এখনো মাথা ঘামাচ্ছেন না বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি।চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন-জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য ও গণফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম খান কামাল।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল,জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সালাম-পিপি এবং মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রমজান আলী।সম্ভাব্য এ সকল প্রার্থীদের অনেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মাঠ পর্যায়ের দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বিভিন্ন উৎসব প্রার্বণে করছেন শুভেচ্ছা বিনিময়। এলাকায় এলাকায় হচ্ছেন অতিথিও।অনেকের আবার মাঠে প্রচারণা কম থাকলেও দলীয় সর্মথন পেতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন জোরোসোরে।জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের একাধিক প্রার্থী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তাদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার-চেয়ারম্যানদের তালিকাও সংগ্রহ করেছেন। তবে নেতারা একে অপরের দোষারোপ করেন বেশি। নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল জাগো নিউজকে জানান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নেতা-কর্মীরা চান আমি নির্বাচন করি। এজন্য তৃণমূল পযায়ে তারাই যোগাযোগ করছেন। মাঠ পর্যায় থেকে ব্যাপক সাড়াও মিলছে। তবে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আমি নিজেই এখনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি।গণফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম খান কামাল জানান, মানুষ পরিবর্তন চায়। একজন সৎ, নিষ্ঠা ও আস্থাবান মানুষ হিসেবেই সবাই আমাকে চেনেন। তাই দলমতের বাইরে সচেতন মানুষরা চান আমি প্রার্থী হই। এজন্যই চেষ্টা করছি।মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছি।প্রশাসক হওয়ায় অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। চেয়ারম্যান হতে পারলে কাজের গতি আরো বাড়বে। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি আর নেতা-কর্মীদের সঙ্গেই আমার প্রতিনিয়িত উঠা-বসা। তারাই চাচ্ছেন আমি চেয়ারম্যান হই।দলের একাধিক প্রার্থীর বিষয়ে গেলাম মহিউদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। বড় দলে একাধিক প্রার্থী থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়টি নির্ভর করছে জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। আমরা যারাই চাই না কেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নেত্রী নিজেই। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না তা এখনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। এ কারণে প্রার্থী নিয়ে ভাবছে না জেলার নেতারা।জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এস.এম আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। এজন্যই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না।জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ কবীর জিন্নাহ জাগো নিউজকে জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে দল অংশগ্রহণ করবে কিনা এখনো তার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে অবশ্যই প্রার্থী দিবো।তিনি জানান, মানিকগঞ্জের সাত উপজেলার সবকটিতেই বিএনপির চেয়ারম্যান। ভাইস চেয়ারম্যানসহ ইউনিয়ন পরিষদের অনেক চেয়ারম্যানও বিএনপির। কাজেই মানিকগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীরাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।নির্বাচন কমিশনের সূত্র মতে, জেলা পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য, ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন। ভোট দিবেন পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা।বি.এম খোরশেদ/এসএস/এমএস