দেশজুড়ে

কিশোরগঞ্জে নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোড়জোড়

কিশোরগঞ্জে শুরু হয়ে গেছে জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগাম তৎপরতা। বিশেষ করে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নানা কৌশলে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। তবে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। ভেতরে ভেতরে চলছে জোড় তৎপরতা। একই সঙ্গে দলীয় সমর্থন পেতে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন অনেকে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের (আওয়ামী লীগ) সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অপরদিকে, নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড এখনও মুখ খুলছে না। তাই স্থানীয় নেতারা এ বিষয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকে চেয়ে আছেন। আগামী ডিসেম্বরের দিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।স্থানীয় সরকার আইনে জেলা পরিষদ নির্বাচন যুক্ত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটে পূর্ণাঙ্গ পরিষদ নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শাসনামলে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদে সরাসরি চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয় তখনকার কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের এমপি বর্তমান জোট সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুকে।কিন্তু দুই বছরের মাথায় এরশাদ সরকারের পতন হলে ১৯৯১ সালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করা হয়। সেই থেকে পরিষদের প্রধান নির্বাহী জেলা পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমানকে। তিনি এখনো প্রশাসক পদে বহাল আছেন। তবে নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তফসিল ঘোষণার আগে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি ছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদ। বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর আসনের এমপি জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তাই এখানকার রাজনীতি অনেকটা ভিন্ন মেজাজের। জেলার রাজনীতিতে দুই নেতার রয়েছে শক্ত অবস্থান। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চাইবে একক প্রার্থী দিতে। জেলার সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের বিষয়ে ভালো জানাশুনা আছে কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের। তাই জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে অনেকটা ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। তবে আনুষ্ঠানিক না হলেও নিজেদের মতো করে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাচিত সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুর রহমান অ্যাডভোকেট ও নব গঠিত কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান।জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট এম এ আফজাল, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চাচাতো ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জেলা জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক।জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অনেক দিন জনগণের জন্য কাজ করেছি। তাই চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করার ইচ্ছে আছে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে দলের সিদ্ধান্তের উপর। অ্যাডভোকেট কামরুল আহসার শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এম এ আফজাল বলেন, দলের মনোনয়নের ওপর নির্ভর করবে নিজেদের প্রার্থিতা। একই মত দেন অ্যাড. শাহ আজিজুল হক ও অ্যাড. সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু।অপরদিকে, বিএনপির অনেক নেতাই এ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী হলেও দলের সিদ্ধান্ত না থাকায় কেউ কথা বলছেন না। কথা হলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই আমরা দলের হাই কমাণ্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে আমরা যে কোনো সময় নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুত আছি।জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলায় ৮টি পৌরসভা, ১৩টি উপজেলা পরিষদ ও ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোট দিবেন।জনপ্রতিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন পুরুষ সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত আসনে নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন।এসএস/এমএএস/এমএস