যতদূর চোখ যায়, শুধু ফুল আর ফুল। লালের পর হলুদ, আবার হলুদের পর লাল। গাঁদা ফুলের এক মনোরম দৃশ্য। আর এই গাঁদা ফুলের সন্ধানে চলে আসতে পারেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা হাইস্কুল মাঠে। এখানে প্রতিদিন বিকেলবেলা গাঁদা ফুলের বিশাল হাট বসে।তিলা গ্রামের ফুলচাষী অধীর বিশ্বাস জানান, তার ২ বিঘা ফুল আছে। তিনি একদিন অন্তর অন্তর ২০/২৫ ঝোপা ফুল হাটে নিয়ে আসেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা-চাষীদের হাটে আনা ফুল কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্রি করেন।মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুলের ঝোপা দেখে দূর থেকে মনে হয় সবুজ মাঠে যেন কোনো মহামান্যকে সংবর্ধনা দেবার জন্য হলুদ গালিচা বিছানো হয়েছে। কালীগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফুলচাষীরা বালিয়াডাঙ্গা স্কুল মাঠে ফুল বিক্রি করতে আসে। প্রতিদিন বসা এই ফুল হাটে ২/৩ লাখ টাকার ফুল ক্রয় বিক্রয় হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাট থেকে ফুল কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এ ফুল সরবরাহ করেন। ফুল ব্যবসায়ী শওকত মির্জা ও মন্টু জানান, প্রায় ৮ বছর আগে শুরু হওয়া বালিয়াডাঙ্গা ফুলের হাট এখন বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। বালিয়াডাঙ্গার এই ফুল হাটে ত্রিলোচনপুর, তিলা, দাদপুর, ঘিঘাটি, বালিয়াডাঙ্গা, কালুকালী, দুলাল মুন্দিয়া, শিশের কুড় থেকে ফুলচাষীরা ফুল বিক্রি করতে আসে। তারা জানান, ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় চাষীরা ফুল বিক্রি করতে এখানেই আসে। ফুলের স্বাভাবিক দর প্রতি ঝোপ্পা ৮০/৯০ টাকা।ট্রেনে কাটা পড়ে পা হারানো মন্টু জানান, নিজ গ্রামে ফুলের হাট হওয়ায় এখন আর আগের মতো পরিশ্রম করতে হয় না তাকে। বর্তমানে ফুলের ব্যবসা করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করছেন। এখন আর নিজেকে আগের মতো অসহায় মনে হয় না। এলাকায় ফুলের হাট হওয়ায় অনেক বেকার যুবক এখন ফুল চাষ ও ব্যবসা শুরু করেছে। তারা আশা করেন, ফুলের হাটটি স্থায়ীভাবে থাকলে এই অঞ্চলের বেকার যুবকেরা ফুলচাষ ও ব্যবসায় নেমে বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপনের সুযোগ পাবে।আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/পিআর