ফেনীর সন্তান মকবুল আহমেদকে কেন্দ্রীয় জামায়াতের নয়া আমীর ঘোষণা করায় ফেনীতে জামায়াত সমর্থক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষে নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অথচ তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ফেনী মহাকুমার শান্তি কমিটির অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল রাজাকার আল-বদর ও আল সামসের সমন্বয় করা। একদিকে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি ঘৃণাভরে তাকে প্রত্যখ্যান করেছেন। অপরদিকে জামায়াত শিবির বিষয়টিকে তাদের জয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।জামায়াতের আমীর মকবুল আহমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে। তিনি ফেনী শহরে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাইস্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। জামায়াতের বর্তমান আমির মকবুল আহমদ ১৯৯১ সালে ফেনী-২ (ফেনী সদর-দাগনভুইয়া) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি পরাভূত হন। ভোট পান সর্বসাকূল্যে ২০ হাজার।মকবুল আহমদ জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির নির্বাচিত হওয়ায় ফেনীতে জামায়াত ও শিবির নেতা-কর্মীদের মাঝে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসাহ উদ্দিপনা।মকবুল আহমদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : অভিযোগ রয়েছে ৭১ সালে মহান মুক্তির সংগ্রাম চলাকালে জামায়াত নেতা মকবুল আহমেদের নির্দেশে ফেনী কলেজের সাবেক ভিপি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মাওলানা ওয়াজ উদ্দিনকে ফেনী থেকে ধরে নিয়ে চট্টগ্রামে অজ্ঞাতস্থানে হত্যা করা হয়। তারপর শহীদ মুক্তিযুদ্ধে ওয়াজ উদ্দিনের লাশের হদিস পায়নি তার স্বজনেরা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ফেনী শহরের তাকিয়া বাড়ি।এমন তথ্য জানিয়ে ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান বলেন, একাত্তরের মুক্তিকামী মানুষের রক্তের দাগে রঞ্জিত এমন একজনকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বে বসিয়ে যুদ্ধাপরাধের কলঙ্ককে দলটি অলংকার হিসেবে বাঁচিয়ে রাখতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময় জামায়াতের আমীর মকবুল আহমেদ রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। তারই নির্দেশে ফেনীর স্থানীয় রাজাকার, আলবদর বাহিনীর সদস্যরা ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ওয়াজ উদ্দিনকে ফেনী থেকে ধরে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারই নিদের্শে তাকে সেখানে চট্টগ্রামে নির্মমভাবে হত্যা করে। তারপর শহীদ মুক্তিযুদ্ধে ওয়াজ উদ্দিনের লাশের হদিস পায়নি তার স্বজনেরা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ফেনী শহরের তাকিয়া বাড়ি।তিনি আরো অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা মকবুল আহমেদের নেতৃত্বে রাজাকার, আলবদর ফেনীর স্বাধীনতা যুদ্ধে ফেনীর মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, মালামাল লুটপাট, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা এবং নারীদের ধর্ষণসহ অসংখ্য জঘন্য কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়। এরপরও এদেরকে এখন বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বজনেরা ক্ষুব্দ ও হতাশা বিরাজ করছে।জেলা ন্যাপের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাধন সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিসহ মুক্তিযোদ্ধারা আশা করে সরকার ফেনীর মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে মকবুল আহমেদসহ জেলার দু’শতাধিক চিহ্নিত রাজাকারের দ্রুত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। দাগনভূইয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শরীয়ত উলাহ বাঙ্গালী বলেন, যুদ্ধকালীন সময় একই উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় আগুন দিয়ে ১০ হিন্দু ও এক মুসলমানকে মকবুল আহমাদের নির্দেশে হত্যা করা হয়।জানা গেছে, ঢাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এই তজু রাজাকার ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মজলিশপুরের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তোফাজ্জল হোসেন তজু রাজাকার নিহত আবুল হোসেনের পরিবারকে মামলা করা বা সাক্ষ্য প্রদানে বিরত রাখার জন্য মোটা অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন। তেমনি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওহাব হত্যা মামলা থেকে তজু রাজাকারকে বাদ দেওয়ার জন্য আবদুল ওহাবের দুই সন্তানকে চাকরি ও নগদ টাকা দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।এমএএস/আরআইপি