দেশজুড়ে

আট বছর পর মা-বাবার বুকে ফিরেছে ইসলাম

আট বছর আগে খাগড়াছড়ি থেকে নিখোঁজ মো. নুরুল ইসলাম মা-বাবার বুকে ফিরে এসেছে। ছেলে নুরুল ইসলামকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা-বাবা। তাকে এক পলক দেখার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শালবন এলাকার বাসায় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীসহ উৎসুক জনতা ভিড় করছেন।নুরুল ইসলামের মা ফাতেমা বেগম বলেন, আট বছর পর আমি আমার বুকের ধন ফিরে পেয়েছি। ছেলে নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, যখন ছেলের ফিরে পাওয়ার আসা ছেড়ে দিয়েছিলাম তখন (গত জুলাই মাসে) খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ছেলের সন্ধান পাই। যারা আমার ছেলেকে আমাদের বুকে ফিরে দিয়েছেন আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন।বাবা সরবত আলী, মা ফাতেমা বেগম, ছোট ভাইসহ খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের এক প্রতিনিধি নুরুল ইসলামকে বাচপান বাঁচাও আন্দোলনের কাছ থেকে গ্রহণ করে। বিকেল ৫টায় খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উদ্ধার হওয়া নুরুল ইসলামকে মা-বাবার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।দীর্ঘ আট বছর পর মা-বাবার কাছে ফিরতে পেরে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, অপরিচিত এক লোকের সঙ্গে কাজের সন্ধানে সে বরিশাল যায়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা নেয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা দিয়ে কাঁটাতারের নিচ দিয়ে তাকে ভারত পাঠানো হয়। ভারতে বিভিন্ন দোকানে কাজ করার সময় তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো। ‘বাচপান বাঁচাও আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন তাকেসহ বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে বলেও জানায় সে। খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মজিদ আলী বলেন, দিল্লির ‘বাচপান বাঁচাও আন্দোলন’র যোগাযোগ কর্মকর্তা পরমা আচার্যীর মাধ্যমে নুরুল ইসলামের অবস্থান জানতে পারি। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির বাংলাদেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। তার অভিভাবকের নাগরিকত্ব ও জাতীয়তা অনুসন্ধান করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়। অবশেষে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত শুক্রবার যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাকে দেশে ফেরত আনা হয়।প্রসঙ্গত, সরবত আলীর তিন ছেলের মধ্যে নুরুল ইসলাম মেজো। অভাবের সংসার হওয়ায় তাকে বাড়ির পাশের খাগড়াপুর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজে দিয়েছিলেন বাবা। সেখান থেকে আট বছর আগে নিখোঁজ হয় নুরুল ইসলাম। বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে তাকে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা, তারপর কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ভারত পাচার করা হয়। ভারতে চায়ের দোকান ও খাবারের হোটেলে কাজ করত সে। মজুরির টাকা চাইলে তাকে মারধর করা হতো। তাই রাগ করে দিল্লি পালিয়ে যায়। দিল্লিতে ‘বাচপান বাঁচাও আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন তাকেসহ বেশ কয়েকজন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারতের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মো. নুরুল ইসলামের প্রথম সন্ধান দেয় সংগঠনটি। মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এআরএ/আরআইপি