জঙ্গি ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে ঝিনাইদহ। উপজেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। ইতোমধ্যে ঝিনাইদহ শহরে ১০০’র বেশি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কাজ চলছে অন্যানো উপজেলাতেও। বাদ পড়েনি মন্দির ও গির্জা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বছর ঝিনাইদহ জেলায় টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন চারজন। বিশেষ করে একজন মন্দিরের পুরোহিত ও একজন সেবায়েত হত্যার পর মানুষের মাঝে শঙ্কা দেখা দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি তৎপরতার পর নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করে ঝিনাইদহ প্রশাসন।ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য ব্যবসায়ী, মন্দির, গির্জা কমিটি, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মালিকদের সিসি ক্যামেরা বসাতে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষ পুলিশের আহ্বানে সাড়া দেয়। এরপর থেকে ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ইতমধ্যে বসানো হয়েছে ১০০টির বেশি ক্যামেরা। বাকি ৫টি উপজেলাতেও চলছে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ।কালীগঞ্জ কালী মন্দিরের পুরোহিত জানান, গত কয়েকটি ঘটনা ঘটনার পর থেকে আমরা মন্দিরের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে পূজা অর্চনা করতাম। এখন মন্দিরে সিসি ক্যামেরা লাগানোর পর কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। ভালোভাবে পূজা করতে পারছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।ঝিনাইদহ শহরের গীতাঞ্জলী সড়কের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, সিসি ক্যামেরা লাগানোর ফলে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বেড়েছে। সেই সঙ্গে যদিও কোনো অপরাধ সংগঠিত হয়, তবে তাদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।ঝিনাইদহ জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম মন্টু বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দূরে রাখতে প্রশাসনের সহযোগীতায় আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, জেলার নিরাপত্তা জোরদার ও জেলা থেকে অপরাধ কমিয়ে আনার জন্য এ কার্যক্রম সুফল বয়ে আনবে। ইতিমধ্যে আমরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ১০০টির বেশি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এছাড়া বাকি ৫টি থানা পর্যায়ে সিসি ক্যামেরা লাগানো শুরু হয়েছে। সিসি ক্যামেরা লাগানোর ফলে ইতিমধ্যে ঝিনাইদহ থেকে অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে গেছে।আহমেদ নাসিম আনসারী/এআরএ/আরআইপি