চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘিরে জেলার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মধ্যে তেমন আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি। এমনকি কোনো প্রার্থীর দলীয় লবিংয়ের কথাও শোনা যায়নি। এদিকে, নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগও বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন সদস্য পদের জন্য ১৫টি ওয়ার্ড চূড়ান্ত করেছে। চাঁদপুরের সকল পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা মিলে এখানে সর্বমোট ভোটার হচ্ছে ১ হাজার ২শ ৬৪ জন। নির্বাচন করার পুরো প্রস্তুতিও রেখেছে জেলা নির্বাচন কমিশন। উপ-মন্ত্রী পদমর্যাদা সম্পন্ন চেয়ারম্যান পদে চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা পুরোদমে তদবির, লবিং চালালেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নিষ্ক্রিয় রয়েছে। নির্বাচনের জন্য এখনো কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা পায়নি বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন তারা। তবে নির্দেশনা আসলে প্রার্থীতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আলহাজ্ব ওছমান গনি পাটওয়ারী, চাঁদপুর পৌরসভার সফল সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. ইউসুফ গাজী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি শহীদুলা মাস্টার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা হাজীগঞ্জের এ কে এম ফজলুল হক ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল পাটওয়ারী জাগো নিউজকে বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী সেইভাবেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে। অপরদিকে, বিএনপির অনাগ্রহ ও নিষ্ক্রিয়তার ব্যাপারে কথা হয় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. সলিমুল্লাহ সেলিমের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছুই ভাবছি না। কেননা এটি একটি একপেশে ও এক দলীয় নির্বাচন হবে যা বাকশালের নামান্তর। তাই বিএনপির এ বিষয় নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। চাঁদপুর জেলা বিএনপির অপর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সফিকুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা তা নির্ভর করছে দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের উপর। দলের একাধিক নেতা মনে করেন ইতোমধ্যে পৌর, উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে যেভাবে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ভোট ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে এবং যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবাই আওয়ামী লীগের লোক ও ভোটার। এ নির্বাচনে বিএনপির আগ্রহ কম বরং বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনকে বৈধতা দেয়া হবে বলেও তিনি জানান। জাতীয় পার্টির চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান শেখ জাগো নিউজকে জানান, চাঁদপুরে জাতীয় পার্টির তেমন কোনো প্রার্থী নেই। তবে আওয়ামী লীগ থেকে যাকে সমর্থন দিবে, আমরাও তাকে সমর্থন দিবো। চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদকে নির্বাচনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছুই জানানো হয়নি। তবে তাদের পুরো প্রস্তুতি রয়েছে। জেলা প্রশাসক আ. সবুর মন্ডল জাগো নিউজকে জানান, চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য সদস্যদের ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ করে ১৮ আগস্ট গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নির্বাচন গ্রহণে আমরাও প্রস্তুত রয়েছি। এফএ/পিআর