বাগেহরহাটের মংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় নবনির্মিত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কনক্রিট গেইন সাইলো এবং মংলা ঘষিয়াখালী নৌ-চ্যানেল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এ নৌ-চ্যানেল উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নৌ-চ্যানেল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন।অন্যপ্রান্ত বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন নৌ-সচিব অশোক মাধব রায়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এম বদরুদ্দোজা, বিআইডব্লিউটএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ কামরুজ্জামান টুকু প্রমুখ।প্রধানমন্ত্রী মংলার সাইলো উদ্বোধন প্রসঙ্গে বলেন, এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই অর্জন আমাদের চিন্তাভাবনার কারণেই সম্ভব হয়েছে। আমাদের চিন্তাভাবনাই হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ অন্যের কাছে হাত পাতবে না। আমরা ভাবি, নিজেরা কীভাবে দেশের মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা দেবো। কিন্তু বিএনপির চিন্তাভাবনা ছিল যদি দেশে ঘাটতি থাকে তাহলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে। মংলা ঘষিয়াখালী চ্যানেল উন্মুক্ত হওয়ায় মংলা বন্দরের পণ্য আনা নেওয়ার জন্য সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচলের যে সমস্যা ছিল তার অবসান হলো। বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে।জানা গেছে, ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক এই কনক্রিট গ্রেইন সাইলোতে যান্ত্রিক উপায়ে খাদ্য খালাসের ব্যবস্থা থাকায় অপচয় এবং খরচ কমবে। সাইলোর মতো মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুন্দরবনের সুরক্ষার জন্য। জেটি ও আনুষঙ্গিক স্থাপনাসহ প্রকল্পটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৫৭৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৩৭৭ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ২০০ কোটি জাপানের জেডিসিএফ অর্থায়ন করেছে।মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-পথের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৬ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। নৌ-পথটি চালুর ফলে ৮১ কিলোমিটার দূরত্ব কমেছে। এছাড়া মংলা-ঘষিয়াখালীর রমজানপুর এলাকায় একটি লুপকাট করায় আরো ৫ কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস পেয়ে মোট ৮৬ কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস পেয়েছে।এ পর্যন্ত ড্রেজার দ্বারা ১৮১ দশমিক ৮০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়েছে। ড্রেজিংকৃত অংশে পলি ভরাটের কারণে সংরক্ষণ খননের আওতায় মোট ৬২ দশমিক ১২ লাখ ঘনমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। বর্তমানে বিআইডব্লিউটি ‘র ৩টি ড্রেজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫টি ড্রেজার অর্থাৎ মোট ৮টি ড্রেজার সংরক্ষণ ড্রেজিং কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানানো হয়।বিআইডব্লিউটিএ’র নবনির্মিত ৮টিসহ মোট ১২টি ড্রেজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬টি ড্রেজার ২০১৪ সালের জুনে নিয়োগ করে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-পথটি পুনঃখনন শুরু করা হয়। নৌ-পথটি পুনঃখনন করার পর ২০১৫ সালের মে মাস হতে পরীক্ষামূলভাবে খুলে দেয়া হয় এবং ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন গভীরতায় মোট ৩৫ হাজার ১৫টি জাহাজ এ নৌ-পথে চলাচল করেছে। নৌ-পথটি ১৩-১৪ ফুট গভীরতায় ও ২০০-৩০০ ফুট প্রশস্তবিশিষ্ট করে সৃষ্টি করা হয়েছে।শওকত আলী বাবু/এফএ/পিআর