চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তিনটি পরিবারের আয়ের উৎস তেলের ঘানি। কিন্তু কোনো গরু নেই তাদের। জোয়াল টানতে হয় নিজের কাঁধে। অমানবিক এই পরিশ্রম করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাড়ির কর্তারা। কিন্তু গরু কেনারও সামর্থ্য নেই তাদের।বিষয়টি গত কয়েকদিন আগে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার মামুন বিশ্বাস নামে এক সংবাদকর্মী এগিয়ে আসেন। ঘানি টানা ওই পরিবারকে সহযোগিতার জন্য নিজেই উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে সবার কাছে সহযোগিতার আবেদন করেন। তখন তার ফেসবুক বন্ধুরা এ কাজে এগিয়ে আসেন।সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সংবাদকর্মী মামুন বিশ্বাস ফেসবুকে তার বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে হাজার বিঘি গ্রামে গিয়ে গতকাল বুধবার ঘানি টানা এক পরিবারের হাতে ৩৭ হাজার টাকা তুলে দেন। তবে এই টাকা গরু কেনার জন্য পর্যাপ্ত নয় তাই আরো কিছু টাকা সহযোগিতা পেলে একটি গরু কিনতে পারবেন বলে দাবি করেন শম্ভু সাহা ও তার স্ত্রী গাজলী সাহা।এদিকে সামর্থ্য না থাকায় গরু কিনতে না পেরে দীর্ঘদিন থেকে সংসারের ঘানির পাশাপাশি তেলের ঘানি টেনে চলছে একই জেলার অঞ্জলী রানী সাহার পরিবার। তার স্বামী-সন্তানরাও তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন। দুই মেয়ের বিয়ের সময় তাদের গরু বিক্রি করেছেন। কিন্তু তারপর আর গরু কিনতে পারেননি তারা। শুধু অঞ্জলী রানী সাহা ও তার স্বামী তারাপদ সাহার পবিবারই নয়। তারাপদ সাহার আরো দুই ভাই শম্ভু পদ সাহা ও হরিপদ সাহা একইভাবে অভাবের তাড়নায় গরু কিনতে না পেরে নিজেরাই ঘানি টেনে সরিষা থেকে তেল বের করে সংসার চালান। তারা বলেন, ঘানি টানতে খুব কষ্ট হলেও গ্রামে তেল বিক্রি করে লাভের টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়।এদিকে হরিপদের তিন মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়েটি স্কুলে পড়ে। স্কুল থেকে ফিরে অনেক সময় না খেয়ে বাবা-মায়ের সাথে ঘানি টানে। গণমাধ্যমে এসব খবর দেখে গত কয়েকদিন আগে আমেরিকা প্রবাসী এক ব্যক্তি হরিপদকে একটি গরু কিনে দেন। এখন তারা গরু দিয়ে ঘানি টানে। তবে এখনো কোনো সহায়তা পাননি অঞ্জলী রানী ও তারাপদ সাহা। অঞ্জলী রানী বলেন, কয়েকদিন থেকে কোমরে প্রচণ্ড ব্যথার কারণে ঠিকমতো ঘানি টানতে পারছি না। তারাপদ সাহা তেল বিক্রি করে সরিষা কিনে বাড়ি ফিরে তারপর ঘানি টানেন। সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু এগিয়ে আসেন তাহলে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন অঞ্জলী রানী। শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক বলেন, আমি জানি পরিবারগুলো পশুর বদলে নিজেরাই ঘানি টানছে। ইউনিয়ন পরিষদে সামর্থ্যইবা কতটুকু। তিনটি পরিবারকে এতো টাকা দিয়ে গরু কিনে দেয়া পরিষদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি দেশের বিত্তবান ও কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি তাদের সহযোগিতারর জন্য।মোহা. আব্দুল্লাহ/এএম/পিআর