রাজবাড়ীর জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী দলের মনোনয়ন পেতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগকারী ও তিন বারের সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ইমদাদুল হক বিশ্বাস একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে পোস্টারের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দলের কাউকে প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি।জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আকবর আলী মর্জি, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুর জব্বার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক এবং বাস-মালিক সমিতি ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী ইরাদত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ, জেলা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগকারী ও তিন বারের সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ইমদাদুল হক বিশ্বাস। নির্বাচনের বেশি সময় না থাকলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনের জন্য সরাসরি মাঠে কাউকে নামতে দেখা যায় নি। কারণ সবাই দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে কৌশল অবলম্বন করছেন। সবাই যে যার স্থান থেকে চেষ্টা করছেন দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে। তবে আলোচনায় থাকা প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন না পেলে জেলার নেতকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে তাদের সমর্থকদের নিয়ে ভেতরে ভেতরে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কাউকে চুল পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ, কে কখন কোথায় কী করেছেন, তা খুঁজে বের করে সবার সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আকবর আলী মর্জি জানান, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েই তিনি নির্বাচন করবেন। নির্বাচনের সব প্রস্তুতি তার রয়েছে।পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ বলেন, দলের হয়েই তিনি নির্বাচন করতে চান। তবে দল তাকে মনোনয়ন না দিলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।এদিকে, তিন বারের সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ইমদাদুল হক বিশ্বাস স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, এতদিন তো সবাই দলের মধ্যে থেকে অনেক ভালো কাজ করেছেন, যা স্থানীয় দুই সাংসদসহ আমরা সবাই জানি। তাই আমাদের মনে হয়, নেত্রী (শেখ হাসিনা) প্রার্থিতা দেয়ার ক্ষেত্রে সবার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই একক প্রার্থী দেবেন। কাউকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না, তবে সবার রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিগত কিছু কাজ রয়েছে, যা এখন তাদের সহায়তা করবে। আমরা চাই, এমন একজন প্রতিনিধি আসুন যিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ভূমিকা রাখবেন।এফএ/পিআর