কে-না চায় প্রাচ্যের অক্সফোর্টখ্যাত দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে। ইচ্ছা সবার থাকে কিন্তু সুযোগ কি সবার হয়? কারো কারো সুযোগ হয় কিন্তু সামর্থ্য চরমভাবে ব্যাহত করে সেই সুযোগকে। তেমনি একজন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী রুজেল মিয়া।উপজেলার সাহতা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার অভাবের সংসারে জন্মগ্রহণ করে মেধাবী রুজেল। দরিদ্র বাবার অভাবের সংসারে তিন ভাই, দুই বোন ও মা-বাবাকে নিয়ে তিন বেলা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাই দায়। দরিদ্র পরিবারের রুজেলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই। ২০১৬ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রুজেল ৫০৪নং স্থান অধিকার করে। দরিদ্র পরিবারের এ শিক্ষার্থীর অর্থাভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জাগো নিউজকে বাচ্চু মিয়া জানান, দরিদ্র দম্পতির পরিবারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবাই শিক্ষার আলো পেতে চায়। তাই সংসারের বড় সন্তান দরিদ্রতার মধ্যেও নেত্রকোনা সরকারি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে আর বোন স্বপ্না সাহতা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। এ অবস্থায় হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে রাজধানী শহরে রেখে ছেলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বন্ধ হতে চলেছে।রুজেল জীবনের শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েও নিজের মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে জয় করেছেন শিক্ষা জীবনের প্রথম সিঁড়ি, পেয়েছেন মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫। সে শিশুকাল থেকে দিনভর শ্রমিকের কাজ করে পরিবারকে সাহায্য করেছেন। স্কুলের বই কেনার সামর্থ্য নেই তাই অন্যের কাছ থেকে বই, খাতা-কলম চেয়ে নিয়ে কোনো রকম লেখাপড়া চালিয়েছেন। সাহতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ এবং পরবর্তীতে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দুইটি পরীক্ষায় সু-নামের সঙ্গে সফলতা অর্জন করায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটা আরো বেড়ে যায় তার। সেই স্বপ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সেখানেও নিজের স্থানটাকে ধরে রাখে। কিন্তু তার সে স্বপ্ন বাঁধ সাধে দারিদ্রতা। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীটি নিঃসন্দেহে মেধাবী, আমরা তাকে যতটুকু পারি সাহায্য করার চেষ্টা করবো।রুজেল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, পরিবারের একমাত্র উপাজর্নাক্ষম ব্যক্তি তার বাবা এখন বয়সের ভারে অক্ষম, জমি-জমা বলতে শুধু বসতবাড়ি। ফলে সর্বস্ব শেষ করেও তার পড়াশোনার ব্যয়ভার গ্রহণ করতে পারবে না। এ অবস্থায় তার শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা। এআরএ/এবিএস