শেরপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ তৌহিদুর রহমান বিদ্যুতের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের শিকার হয়েছেন জুয়েল মিয়া (৩০) নামে এক কর্মচারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসভা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়ে পৌর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে সকল শাখায় নাগরিক সেবা বন্ধ হয়ে যায়।প্রত্যক্ষদর্শী ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানায়, দুপুরে প্যানেল মেয়র ও ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌহিদুর রহমান বিদ্যুৎ তার এলাকার এক পরিচিত ব্যক্তিকে জন্ম নিবন্ধন দেয়ার জন্য মুঠোফোনে টিকাদানকারী জুয়েলকে নির্দেশ দেন। পরে পৌরভবনে এসে ওই ব্যক্তি নিবন্ধন সনদ চাইলে দায়িত্বে থাকা টিকাদানকারী জুয়েল জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চান। এসময় প্রয়োজনীয় কাগজ দিতে না পারায় জুয়েল জন্ম নিবন্ধন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর দুপুর একটার দিকে প্যানেল মেয়র তৌহিদুর রহমান পৌর ভবনে এসে ওই কর্মচারীকে মারধর করেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে পৌর পরিষদের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় প্যানেল মেয়র পৌরসভা ত্যাগ করেন।পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে পৌরভবনে সমাবেশ শেষে পৌর কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. মোসলেম উদ্দিন ওই ঘটনায় প্যানেল মেয়রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা করেন।ঘটনার প্রেক্ষিতে পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন বিকেলে জরুরি ভিত্তিতে পৌরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে পৌর পরিষদের সভা করেন। সভায় কাউন্সিলর তৌহিদুর রহমান বিদ্যুৎকে প্যানেল মেয়র-২ পদ থেকে অপসারণ, ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের এবং তিনদিনের মধ্যে কাউন্সিলর বিদ্যুৎ ক্ষমাপ্রার্থনা না করলে তার বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বিকেল ৪টার দিকে কর্মচারীরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। সভায় অভিযুক্ত প্যানেল মেয়র তৌহিদুর রহমান বিদ্যুৎ ছাড়া সকল কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে শেরপুর পৌর কর্মচারী সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুজ্জামান ঝন্টু জানান, কর্মচারীর গায়ে প্যানেল মেয়রের হাত তোলার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। কর্মচারী কোনো ভুল করলে তার জন্য তিনি অফিসিয়ালি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে তাৎক্ষনিক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলাম। তবে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে সভায় সম্মানজনক সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর তৌহিদুর রহমান বিদ্যুৎ মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, পৌরসভার কর্মচারী তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে ওই কর্মচারীকে কিছুটা লাঞ্ছিত করেছেন। তবে এ ঘটনার জন্য তাৎক্ষণিক তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন জানান, কাগজপত্র ছাড়া জন্মনিবন্ধন দেয়া সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। আর ওই বিষয় নিয়ে একজন দায়িত্বশীল প্যানেল মেয়রের হাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। তবে পৌর পরিষদের জরুরি সভায় উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। হাকিম বাবুল/আরএআর/পিআর