দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদেরকে এখনো স্বপদে বহালের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, ওসি সাহেব যদি পুলিশ লাইনসে না যান, তাহলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাকে তো আর বেঁধে পুলিশ লাইনসে পাঠানো যাবে না!খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও ঘর-বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় বুধবার দুপুরে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদেরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। তবে ওসি আবদুল কাদের বৃহস্পতিবারও তার স্বপদে বহাল রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাসিরনগর গৌরমন্দিরে ঘটনা তদন্ত করতে যাওয়া চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গেও আবদুল কাদেরকে দেখা গেছে।এদিকে স্থানীয় সংসদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ওসি ভালো লোক। তাকে প্রত্যাহার করা যাবে না, তার প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করা হচ্ছে। মন্ত্রীর এমন ভূমিকায় এলাকায় সংখ্যালঘু এবং সুশীল সমাজের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ওসি আবদুল কাদেরকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু ওসি সাহেব যদি পুলিশ লাইনসে না যান তাহলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাকে তো আর বেঁধে পুলিশ লাইনসে পাঠানো যাবে না! যদি ওসি পুলিশ লাইনসে এসে যুক্ত না হন তাহলে তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হবে, যদি সেই আদেশও তিনি অগ্রাহ্য করেন তাহলে তাকে বরখাস্ত করা হবে।তবে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, ওসি আবদুল কাদেরের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক তদবির করছেন। এজন্যই ওসি এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন।আজিজুল সঞ্চয়/এআরএ/পিআর