ভোলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের ২১টি পদের দায়িত্বে কেউ নেই। এসব পদের কর্মকর্তারা বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন পদগুলো শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাতটি এসিল্যান্ড, আটটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তিনটি পিআইওসহ প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে অফিসিয়াল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের জরিপ, মোবাইল কোর্টসহ নানা কর্মকাণ্ড। দু-একটি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়ায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি সেবা থেকে।জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মনপুরা উপজেলায় দুই মাস ধরে, দৌলতখান উপজেলায় দেড় মাস ধরে এবং ভোলা সদরে এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেই। এতে ওই উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, সরকারি কর্মসূচি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে দৌলতখানে এবং চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে মনপুরায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে ভোলা সদরে নতুন নির্বাহী যোগদান করবেন বলে জানা গেছে।এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আগে যেখানে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন, সেখানে এখন আছেন মাত্র চারজন। একই অবস্থা জেলার সাত উপজেলাতেও। সেখানে একটি উপজেলাতেও নেই এসিল্যান্ডের পদ। মনপুরা উপজেলায় পাঁচ বছর, চরফ্যাশনে এক বছর, বোরহানউদ্দিনে দুই মাস, দৌলতখান উপজেলায় পাঁচ থেকে ছয় বছর, লালমোহন উপজেলায় দুই বছর ও ভোলা সদরে দুই মাস ধরে এসিল্যান্ড নেই। এতে ওইসব উপজেলায় গৃহনির্মাণ, ভূমিহীন তালিকাসহ নানা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা পদেরও একই অবস্থা। জেলার তিন উপজেলা দৌলতখান, চরফ্যাশন ও মনপুরায় নেই ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (পিআইও)। জানা গেছে, সবচেয়ে অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে মনপুরা উপজেলা। সেখানে নেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড ও পিআইওর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের কোনো কর্মকর্তা। এতে মারাত্মকভাবে ওই উপজেলার সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।এ ব্যাপারে ভোলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসাক মো. মাহমুদুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব পদে কাউকে পদায়ন দেয়া হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই এসব পদে কর্মকর্তা যোগদান করবেন।এফএ/পিআর