ধারণ ক্ষমতা ৫শ ৩০ জনের কিন্তু বন্দি রয়েছেন ২ হাজার ৬১১ জন। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা। রয়েছে জনবল সঙ্কটও। এতসব সমস্যায় ধারণ ক্ষমতার পাঁচ গুণ বেশি বন্দি নিয়ে বেহাল অবস্থায় চলছে কক্সবাজার জেলা কারাগার। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাক্ষাৎকারীরাও।সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে কক্সবাজার কারাগার থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকজন জানান, বর্তমান জেল সুপার যোগদানের পর থেকে বন্দিরা খাবার ও থাকা নিয়ে ভালো থাকলেও, বাথরুম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি নিয়ে কষ্ট যায়নি। ৫০০ জনের জন্য বরাদ্দ সবকিছু অতিরিক্ত বন্দির সঙ্গে ভাগাভাগি করায় এ দুর্ভোগ কাটছে না বলে তাদের অভিমত। ডেপুটি জেলার অর্পণ জানান, বিগত দুই বছর ধরে তিনি একাই কাজ করে আসছেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে মধ্য রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার কারাগার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বন্দিদের সাক্ষাৎ কক্ষে দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র। মাঝখানে নির্দিষ্ট দূরত্বের দেয়ালে পৃথক দুটি ছোট্ট কক্ষ বন্দি ও সাক্ষাৎ প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ। সেখানে যে পরিমাণ সাক্ষাৎকারী ধরার করার কথা রয়েছে তার চারগুণ বেশি। এতটা উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতে হচ্ছে, মনে হবে কোনো বাস স্টেশনে একে অপরকে কথা শুনানোর চেষ্টা করছেন। এরপরও ভেতর-বাহিরে থাকারা ঠিকমতো কথা শুনতে পারছেন না। দু’পাশেই দাঁড়াতে হয়েছে গাদাগাদি করে। জেল সুপার মোহাম্মদ বজলুর রহমান আখন্দ জানান, কারাগারে ধারণক্ষমতার বিপরীতে জনবল বরাদ্দ থাকে। সে অনুপাতে ৫৩০ জনের জন্য জনবল রয়েছে কক্সবাজারের কারাগারে। কিন্তু সৃষ্ট পদও শূন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি। বর্তমানে কারাগারটিতে স্থায়ী কোনো চিকিৎসকও নেই। একজন ফার্মাসিস্ট থাকলেও প্রয়োজন আরো একজন। দুজন ডেপুটি জেলারের মধ্যে রয়েছেন একজন। দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে প্রধান কারারক্ষীর পদ। নারীসহ কারারক্ষী রয়েছে ৭৯ জন, যা ধারণক্ষমতার পাঁচ গুণ বন্দিকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে অপ্রতুল। তাই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপরও কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হাজতি-কয়েদিদের উপযুক্ত সেবা দেয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা চালানো হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এবিএস