স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই কয়েকজন প্রার্থী জাতীয় নেতাদের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ব্যবহার করে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনসহ নানাভাবে প্রচার করছেন। যেখানে পূর্বানুমতি ছাড়া জাতীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার অপরাধ। এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিলাত মুন্না (এমপি) স্বাক্ষরিত একটি সচেতনতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই এ নির্দেশনা মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্যপদে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে অনেক প্রার্থীই দোয়া, আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছাসহ ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দলে দলে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে সাক্ষাৎ করছেন আর দোয়া চাইছেন। সেইসঙ্গে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের আশপাশে, পৌরসভা কার্যালয়ে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে, ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে, স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় দোয়া ও শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন, মোড়ে মোড়ে, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে, চায়ের স্টলসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচার-প্রচারণার জন্য দোয়া, আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সিরাজগঞ্জ কোর্ট চত্বর এলাকার প্রধান শহীদ মহুকুমা প্রশাসক শামসুদ্দিন গেটের সামনেই বিদ্যুতের পোলের সঙ্গে বিশাল এক ব্যানার। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অমান্য করে এক পাশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয় আর অন্য পাশে শহীদ এম মনসুর আলী, মোতাহার হোসেন তালুকদার ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিমের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদিকা জান্নাত আরা হেনরীকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই লিখে ব্যানার ও পোস্টার লাগানো হয়েছে।
হলমার্কসহ নানাভাবে আলোচিত সিরাজগঞ্জের সেই জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী আবারও এসেছেন আলোচনায়। একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন এলাকায় এরকম বহু চিত্র চোখে পড়ে। একইভাবে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকেই গাছের সঙ্গে টানানো রয়েছে বিশাল এক ব্যানার। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অমান্য করে এক পাশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয় আর অন্য পাশে শহীদ এম মনসুর আলী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম, তানভীর শাকিল জয়ের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ব্যবহার করে ৩নং ওয়ার্ডের (শুভগাছা, রতনকান্দি, বাগবাটি, ছোনগাছা, মেছড়া, বহুলী) কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে দোয়া ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হামিদুল ইসলাম। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক জানান, পূর্বানুমতি ছাড়া ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অমান্য করে ছাত্রলীগের কোনো প্রার্থী যদি জাতীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার করেন, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/পিআর