বঙ্গোপসাগর পাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে শনিবার (১২ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মালম্বীদের তিনদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব। উৎসবকে ঘিরে সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকায় বসেছে রাস মেলা। এবারই প্রথম পুণ্যার্থীদের চেয়ে অন্য ধর্মের দর্শনার্থীদের রাস উৎসবে যোগ দিতে পর্যটকদের ন্যায় রাজস্ব প্রদান করতে হচ্ছে। অন্যদিকে সুন্দরবনে মাছ শিকারসহ সকল ধরনের পাশ পারমিট বন্ধ করে হরিণসহ বন্য প্রাণি শিকার রোধে ভ্রাম্যমাণ টিমকে শক্তিশালী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম। তিনদিনের রাস মেলা চলাকালীন সময়ে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা কোন প্রকার মাংস এমনকি ছাগল-মুরগিও সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবনে ঢুকতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এবার তিথি অনুযায়ী ১২ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই রাস মেলা চলবে। ১৪ নভেম্বর সোমবার সকালে সাগর পাড়ে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মেলা। মেলায় হস্ত ও কুটির শিল্পের কয়েকশ’ দোকানি পসরা সাজিয়ে বসেছে। এছাড়া তিনদিনব্যাপী মেলায় জারি-সারি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, শত শত বছর ধরে প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসের ভরা পূর্ণিমায় সাগর পাড়ের দুবলার চরে অনুষ্ঠিত হয় রাস উৎসব। রাস উৎসব ঘিরে এবছর দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক দর্শনার্থী এবং তীর্থ যাত্রীর সমাগম হবে দুবলারচরে। মেলায় আগতদের প্রবেশের বন বিভাগ ৮টি রুট নির্ধারণ করেছে। এসব রুট দিয়ে নৌকা, ট্রলার, লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানে যোগে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা সুন্দরবনে দুবলায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। রাস উৎসবকে ঘিরে সুন্দরবনে বন বিভাগের ১৮টি টহল টিমের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, র্যাব, নৌবাহিনী ও পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় তিনদিনের রাস উৎসব সুন্দরভাবে শেষ হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। শওকত অালী বাবু/এএম/এমএস