গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তসলিম মিয়া (৪০) ও তার চাচাত বোন মর্জিনা বেগমের (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার নারীসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের পূর্ব ঝিনিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন- পূর্ব ঝিনিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে হজরত আলী, হাবিজার রহমান, আজিজুল হক, মৃত বজর আলীর ছেলে আবুল হোসেন, হযরত আলীর স্ত্রী গোলেনুর বেগম, আবুল হোসেনের স্ত্রী জরিনা বেগম, মোজাহার আলীর স্ত্রী আকলিমা বেগম ও হাবিজার রহমানের স্ত্রী মোর্শেদা আক্তার। সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিয়ার রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার নারীসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।এর আগে শনিবার সকালে তসলিম মিয়া ও মর্জিনা বেগম ধানের জমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যান। এ সময় শহিদুল হক, মর্জিনা ও জমিলা খাতুন নামে তিনজন আহত হন। আহতদের সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত তসলিম মিয়া ওই গ্রামের মো. মফিজল মিয়ার ছেলে ও মর্জিনা বেগম মজিবর রহমানের মেয়ে। দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কবির মুকুল জাগো নিউজকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিহত তসলিমের সঙ্গে প্রতিবেশী আবুল শেখের ছেলে হজরত আলীর ৮০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলে আসছিল। কিছুদিন আগে আদালত কর্তৃক তসলিম ডিক্রি পেয়ে জমিতে আমন ধান রোপণ করেন। বর্তমানে জমির ধান আধ-পাকা হলে হজরত আলী জমিতে জিআই তার দিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে। শনিবার সকালে জমিতে ধান কাটতে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। জিল্লুর রহমান পলাশ/আরএআর/আরআইপি