দেশজুড়ে

জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ

৬ ঘণ্টা জাল বেয়ে মাত্র ১২টা মাছ পেয়েছি, তাও আবার জাটকা। বিক্রি করে ৪০০ টাকা মিলেছে। যেখানে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারে ৩০ লিটার তেল পুড়েছে, এ মাছের টাকা দিয়ে কী করবো? না জুটবে মাঝি-মাল্ল­ার ভাগ্যে, না দেনা শোধ হবে। ইলিশ না পেয়ে এ কথাগুলো বলছিলেন ভোলা সদরের ইলিশা ইউনিয়নের মহিউদ্দিন মাঝি। তিনি বলেন, শনিবার সকাল ১০টায় ২ হাজার ১৬০ টাকার ৩০ লিটার তেল কিনে ইলিশা ঘাট থেকে তিন জেলে নিয়ে মাছ শিকারে গেছি। বিকাল ৩টা পর্যন্ত তুলাতলী, মাঝের চর ও মদনপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলে জুটেছে মাত্র ১২টি মাছ। এ মাছ দিয়ে কী করবো। সারাদিনের খাটুনি উঠলো না বরং দেনার দায় মাথায় চেপে বসলো। ইলিশের প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকে নদীতে ইলিশ মিলছে না, এতে মহিউদ্দিনের মতো হাজারো জেলে মহাসঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন। তারা জানান, যেটুকু মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাও জাটকা। বাজারে তার দাম নেই। কিন্তু জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও অভিযানের আড়ালে জাটকা শিকার চলছেই। ইলিশা, তুলাতলী ও ভোলার খাল ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। নদীতে মাছ নেই। দু-একটি জাটকা ধরা পড়ছে। জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, ইলিশ নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরে তারা ভাবছিলেন জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে কিন্তু দেখা মিলছে না ইলিশের। তবে কিছু অসাধু চক্র বাড়তি মুনাফার আশায় জাটকা শিকার করছে- এমন অভিযোগ অনেকের। এর ফলে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইলিশের ঘাটগুলোতে সেই চিরচেনা দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না, জেলে পল্লিতেও অভাবের চিহ্ন। ঘুরো দাঁড়ানোর চিন্তায় দিশেহারা জেলে পরিবারে এখন অনিশ্চয়তা।ভোলা সদর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ডিম ছাড়ার পর মাছের গতিপথ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাড়াছা পানিতেও তেমন উজান নেই, তাই মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কিছু দিনের মধ্যে এ সমস্যা থাকবে না।এফএ/এমএস