সাতক্ষীরা-যশোর-খুলনা-আশাশুনি-দেবহাটা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়ক-মহাসড়কের সবগুলোই জেলার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কগুলো উপজেলা সদর ছাড়াও জেলা সদর ও রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লাখো মানুষের যাতায়াত প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে। অথচ জেলার ২২ লাখ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগের যেন অন্ত নেই। জেলার সড়ক মহাসড়কগুলো যেন খানাখন্দ। আর বৃষ্টি হলে তো বাঁচার উপায় থাকে না। কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত পানিতে বোঝার উপায় নেই। প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। শান্তিতে নেই যানবাহন মালিকরাও। গর্তে পড়ে যানবাহন বিকলের ঘটনা তো ঘটেই চলেছে।এসব রাস্তা দিয়েই চলাফেরা সাতক্ষীরার চারজন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, সড়ক জনপথ বিভাগসহ জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।এসব দুর্ভোগের চিত্র বর্ণনা করে সাতক্ষীরা সদরের আমতলা মোড় এলাকার সোহাগ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা খারাপ। বৃষ্টি হলে তো আর চলাচলের উপায় থাকে না। রাস্তায় পানি জমে যায়। জেলা সদরের প্রশাসনিক দফতর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তো আরো করুণ অবস্থা।তাছাড়া বড় বাজার, ইটাগাছা, রেজিস্ট্রেশন অফিস, সরকারি কলেজ এলাকা, পোস্ট অফিস মোড় এলাকা ও সুলতানপুর এলাকার রাস্তায় যাতায়াত না করলে দুর্ভোগের চিত্র বলে বোঝানো সম্ভব নয়।তালা উপজেলার সুজনশাহ এলাকার আবুল কালাম গাজী বলেন, সুজনশাহ কাউন্সিল, তেঁতুলিয়া, তালা মহিলা কলেজ রোড, সরকারি কলেজ রোড, খলিলনগর এলাকা, হাসপাতাল রোডের মত প্রধান সড়কগুলোর খুবই জরাজীর্ণ অবস্থা।কলারোয়া উপজেলার জুলফিকার আলী জানান, কলারোয়া সদর থেকে সরসকাটি রোড, ব্রজবাকসা বাজার, সোনাবাড়ীয়া রোড সড়কগুলো এত খারাপ যে সাইকেল নিয়েও চলাচল করা যায় না। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানির ঘটনা। আশাশুনি উপজেলার বাহাবুল হাসনাইন জানান, আশাশুনি টু সাতক্ষীরা সড়ক, কোলা, বড়দল, পারুলিয়া, বুধহাটা-শোভনালী ব্রিজ এ রাস্তাগুলো আশাশুনি উপজেলার মানুষের যোগযোগের প্রধান মাধ্যম। অথচ এর একটি রাস্তাও চলাচল উপযোগী নয়। চাপড়া টু চিলেডাংগা সাইক্লোন শেল্টার পর্যন্ত একটি রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে।শ্যামনগর উপজেলার আনিছুর রহমান জানান, শ্যামনগর সদর থেকে মুন্সিগঞ্জ ও ভেটখালি দুটি রাস্তাই মূলত উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এই দুটি রাস্তার অবস্থা খুবই করুণ। তাছাড়া নুরনগর, চিংড়িখালি, হরিনগর, খানপুর-নুরনগর, গোবিন্দপুর-কাশিমাড়ি, চোয়ালিয়া-মানিকপুর, ভেটখালি-কৈখালি, মুন্সিগঞ্জ-নীলডুমুর বিজিবি ক্যাম্প, চন্ডিপুর-শ্যামনগর বাজার এসব এলাকার রাস্তাগুলো আস্ত নেই।কালিগঞ্জ উপজেলার ইশারাত হোসেন বলেন, কালিগঞ্জ কলেজ মোড়, কৃষ্ণনগর, বাশতলা রোড। কালিগঞ্জ-জিরোনগাছা-মৌতলা-দক্ষিণ শ্রীপুর, নলতা-তারালি রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপোযোগী।দেবহাটা সদরের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আবুল ফজল জানান, সাতক্ষীরা সদরে যোগযোগের যে প্রধান সড়ক সেটিই ভালো নেই। মূল সড়কটিই খারাপ।এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করিম জানান, এসব রাস্তাগুলো সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার রাস্তার ছোটখাটো কাজগুলো আমরা চলমান রেখেছি। যাতে যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। বরাদ্দ স্বল্পতাও রয়েছে। জেলার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, চেষ্টা করছি রাস্তাগুলো সংস্কারের। দেড় মাস পর বাকাল থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার শুরু হবে। ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সড়কটি। তাছাড়া বাকি সড়কগুলোর বিষয়েও আমরা চেষ্টা তদবির করছি কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষ থেকে এখনো কোনো রিপ্লাই পায়নি।আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর