নিখোঁজের সাত মাস পর যশোরের মনিরামপুরে মাছের ঘের থেকে সবুজ বিশ্বাস (২৮) নামে এক যুবকের বস্তাবন্দি গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের উপস্থিতিতে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সবুজ বিশ্বাস যশোর সদর উপজেলার কিসমত রাজাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর বিশ্বাসের ছেলে। সবুজ নিখোঁজের ঘটনায় আটক আসামি বিপ্লবের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিপ্লব মনিরামপুর উপজেলার ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের নাজিম সরদারের ছেলে। নিহতের পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের গফফার মোল্যার ছেলে তারিকুল ইসলাম মালয়েশিয়া নিয়ে যাবার কথা বলে সবুজের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনার পর গত ৫মে সবুজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর সবুজের ভাই মাহবুর রহমান ৭মে তরিকুল ইসলামসহ চার জনের নামে যশোর কোতোয়ালি থানায় পাচার আইনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর উপজেলার ইছালি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শরিফুল ইসলাম তদন্ত করতে গিয়ে গুম ও হত্যার রহস্যের উদঘাটন করতে সক্ষম হন। সূত্র জানায়, এরই মধ্যে গত ১৫ দিন আগে পলাতক অবস্থায় তারিকুল আত্মহত্যা করেন। তারিকুল আত্মহত্যার আগে সবুজ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একটি চিরকুট লিখে যান। এরই সূত্র ধরে ১২ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলাম তারিকুলের ভগ্নিপতি মণিরামপুর উপজেলার ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের নাজিম সরদারের ছেলে বিপ্লবকে আটক করেন। এরপরই হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটন হতে থাকে। আটক বিপ্লব আদালতে গুম ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তি মোতাবেক আটক বিপ্লবকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামসহ মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার উপজেলার ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামে যান। এসময় বিপ্লবের বাড়ি থেকে দেড়শ গজ দূরে মাছের ঘেরে সবুজের বস্তাবন্দি মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা রয়েছে বলে বিপ্লব তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের জানান। এরপর বিপ্লবের দেখানো পথ অনুসরণ করে নৌকাযোগে ওই ঘেরে যান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা। বিপ্লবের দেখানো জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচে মাটিতে পুতে রাখা বস্তাবন্দী মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসময় অভিযুক্ত বিপ্লব জানান, তার কুটুম (শ্যালক)সহ আরো কয়েকজন ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তার বাড়িতে আসেন। এসময় ঘের দেখানোর কথা বলে ওই ঘের পাড়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় সবুজকে। এরপর মাছের খাবারের বস্তায় মরদেহ ভরে ওই ঘেরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। এসময় নিহতের স্বজনরা সবুজের মরদেহ শনাক্ত করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আটক করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।মিলন রহমান/এআরএ/আরআইপি