দেশজুড়ে

অবহেলিত চরে উন্নয়নের আভাস

প্রমত্তা পদ্মানদী বেষ্টিত বিচ্ছিন্ন এক জনপদ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়ন। গত কয়েক যুগ ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে ইউনিয়নটি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা অপ্রতুলতার কারণে জীবনযাত্রার মান বাড়ছে না পদ্মার এই চরে। এ এলাকার ৮০ ভাগ মানুষই ভূমিহীন। গ্রামগুলো ২৫ থেকে ৪০টি বাড়ি নিয়ে যেন ছোট ছোট একেকটি দ্বীপ। আট বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ চরের ৬৫টি গ্রামে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের বাস। নদী ভাঙন সবচেয়ে বড় দুর্যোগ এ এলাকায়। পদ্মার ভাঙনে প্রতি বছরই গৃহ ও ভূমিহীন হয়ে পড়ছেন চরের বাসিন্দারা। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার প্রকোপও রয়েছে। চলতি বছরের বন্যায় ডুবে গিয়েছিল পুরো চর। ঘরবাড়ি ফেলে চর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে এসে আশ্রয় নিয়েছিল অসংখ্য মানুষ। নদী ভাঙনে গ্রামের পর গ্রাম, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে এ বছরও।তবে কৃষিকাজ, গবাদি পশুপালন, মাছ শিকার ও কাওড়াকান্দি, শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় হকারি করে জীবনধারণ করা অধিকাংশ মানুষের এই চরাঞ্চলে বইছে উন্নয়নের আভাস। প্রমত্তা পদ্মায় চলছে সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। পদ্মা সেতুকে ঘিরে এই এলাকায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে- এমন আশ্বাস পাওয়া গেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও।অবহেলিত পদ্মার চরে নির্মিত হবে অলিম্পিক ভিলেজ। গত শনিবার (১২ নভেম্বর) অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য শিবচরের চরজানাজাত ইউনিয়নের চরাঞ্চল এলাকা পরিদর্শনে আসেন সেনাপ্রধান আবু বেলাল মাহমুদ শফিকুল হক এবং বিওএ’র মহাসচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।বিশাল চরাচঞ্চলের জনবসতিহীন অংশকে ঘিরে রয়েছে নানা পরিকল্পনা। কর্তাব্যক্তিদের পদচারণায় উন্নয়ের দৃশ্য কল্পনায় দেখে আনন্দজলে চোখ চিকচিক করছে এ এলাকার বয়স্কদের।অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস সেনাবাহিনী প্রধানের বরাত দিয়ে বলেন, তারা এখানে অলিম্পিক ভিলেজ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্যই মূলত এসেছেন। চরের জায়গা দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশও করেছেন। পদ্মার ভাঙন ও ভৌগোলিক কারণগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে- এখানে অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণ করা যায় কিনা।পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পদ্মা সেতুর সঙ্গে সঙ্গে পদ্মাপাড়ের এ অঞ্চলজুড়ে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে- এমনটাই আশা এখানকার সাধারণ মানুষের। চরাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু হয়ে গেলেই পদ্মার পাড়সহ এ অঞ্চলের উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। গত তিন বছরে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ নানাবিধ উন্নয়নের কাজে বিশাল এই চরাঞ্চল কাজে লাগানো যায় কিনা- তা দেখতে মন্ত্রীসহ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা এ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।চরে বসবাসরত ষাটোর্ধ্ব আলীম মিয়া জানান, মূল ভূ-খণ্ডে যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌকা। কৃষিকাজ, পশুপালন, মাছ শিকার এখানের মানুষের অন্যতম পেশা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রতি বছর নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লেখাপড়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যারা একটু সচ্ছল, তারা চর থেকে শহরে গিয়ে থাকছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছে। আর দরিদ্রেরা থেকে যাচ্ছে এখানেই। ফলে জীবনযাত্রার মানের তেমন উন্নয়ন নেই এ চরে। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ জানান, পদ্মা সেতুকে সামনে রেখে এ এলাকায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে ধাপে ধাপে। পদ্মার চর এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর এবং অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণ করা যায় কিনা- তা নিয়ে ভাবছে সরকার। নাসিরুল হক/এফএ/পিআর